
X
সেঞ্চুরি করে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা তানজিদ হাসান তামিম-ইন্টারনেট
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত দুজনেই ভালো শুরু পেয়েছিলেন। কিন্তু বেশখানিকটা সময় ব্যাটিংেযে হাল ধরে রাখতে পারেননি তারা। তবে অন্যপ্রান্ত আগলে ধরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। স্ট্রাইক রোটেট করে ও স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। আর তাতে ভর করে বড় সংগ্রহের আশা দেখছে বাংলাদেশ।
হেলমেটটা খুলে রেখেছিলেন আগেই। সালমান আগার বলটা উড়িয়ে সীমানাছাড়া করার পর তানজিদ হাসান ছড়িয়ে দেন দুই হাত। তাঁর চোখেমুখে তখন দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হওয়ার তৃপ্তি। সেই আনন্দ সঙ্গী করেই লুটিয়ে পড়লেন সেজদায়। এরপর জড়িয়ে ধরলেন অপর প্রান্ত থেকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসা সতীর্থ লিটন দাসকে।
২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই তানজিদকে ঘিরে বড় আশা। তিনি যে ভালো করেননি, তা নয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই বড় ইনিংসের দেখা পাচ্ছিলেন না কিছুতেই। ৩০ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ৫টি আর ৪৫ টি২০ ছিল ১১টি হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু ম্যাজিক ফিগার ‘তিন অংক’ ছোঁয়া হচ্ছিল না কিছুতেই। আজ মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ঘুচল সেই আক্ষেপ।
বাংলাদেশের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে একাদশে জায়গা হয়নি তানজিদের। লিটন দাসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দলের পছন্দ ছিল সৌম্য সরকার। সেই জুটি তখন ভালোও করেছিল, ৯১ রানের ইনিংসে সৌম্য হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। তবু তাঁকে সরিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট ও প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে রাখা হয় তানজিদকে। ১১৪ রান তাড়ায় নেমে ৪২ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে ছন্দে ফেরার বার্তাও দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট, ৭ বল খেলে করেন মাত্র ১ রান। আজ ব্যর্থ হলে তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিতভাবেই বড় প্রশ্ন উঠত। কিন্তু তানজিদ তা হতে দিলেন কই!
আজ আবার চেনা ছন্দে ফিরেছেন এই ওপেনার। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়েছে তাঁর ব্যাটের ছোঁয়ায়। পাওয়ার প্লের কথাই ধরা যাক; ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান যখন ৫০, তানজিদ তখন অপরাজিত ৩০ রানে (৩৩ বল)। এই সময়ের মধ্যে দুই ছক্কা মেরে একটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। লিটন দাসকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে।
আর এমন ঝলক অবশ্য ক্যারিয়ারে অনেকবারই দেখিয়েছেন তানজিদ। বাউন্ডারি মারার সক্ষমতায় তিনি দেশের অন্যতম সেরা। কিন্তু ইনিংস টেনে লম্বা করতে না পারার অপবাদটা ছিল তার সঙ্গী। এবার আর সেই ভুল পথে হাঁটেননি। ৪৭ বলে পেলেন ফিফটি, আর সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ৯৮ বলে।
রোববার মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে শতরান তুলে নেন তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছিলেন তানজিদ, অন্য প্রান্তে কিছুটা ধীরগতিতে ইনিংস সাজাচ্ছিলেন সাইফ।
তবে অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকলেও পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন না সাইফ। শেষ পর্যন্ত শাহিন আফ্রিদির নতুন স্পেলের প্রথম বলেই বিপদে পড়েন তিনি। ডাউন দ্য উইকেটে শট খেলতে চাইলেও ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি। ফলে বল সোজা আঘাত হানে স্টাম্পে এবং বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে।
আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন সাইফ। তার বিদায়ে ভাঙে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান তানজিদের সঙ্গে নতুন সঙ্গী হন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজন মিলে রান নিয়ে যান ১৫০ এর ঘরে। ভালো শুরু পেলেও শান্ত ৩৪ বলে ২৭ রান করে হারিস রউফের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। শান্ত অবশ্য রিভিও নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও সিদ্ধান্ত একই থাকে। এরপর আসেন লিটন। যাকে সঙ্গে নিয়েই নিজের প্রথম সেঞ্চুরি উদযাপন করেন তানজিদ।
ম্যাচের ৩২তম ওভারের পঞ্চম বল পর্যন্ত ৯৪ রান ছিল তানজিদ। ওভারের শেষ বলে সোজা তুলে মেরে দুর্দান্ত এক ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ। ৯৮ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ১০০ পার করেন তিনি। ৯ চারের পাশাপাশি তার ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি ছক্কা। ততক্ষণে মিরপুরে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার কীর্তিও এখন তার
তিন অংক পেরোনোর পর অবশ্য ইনিংসটা আর খুব বেশি বড় করতে পারেননি তানজিদ। আগে থেকেই তাঁর শরীরী ভাষায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল, ঠিকঠাক হাঁটতেও পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রানেই থেমেছে তার লড়াকু ইনিংস। তবে আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে গেছেন এই তরুণ ওপেনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (সাইফ ৩৬, তানজিদ ১০৭, শান্ত ২৭, লিটন ৪১, হৃদয় ৪৮*, রিশাদ ০, আফিফ ৫*; আফ্রিদি ১০-০-৫৫-১, রউফ ১০-০-৫২-৩, আবরার ১০-০-৪৯-১, ফাহিম ৪-০-২৪-০, সাদ ৮-০-৫৫-০, সাদাকাত ১-০-৯-০, সালমান ৭-০-৩৫-০)