প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৪:২১ পিএম (ভিজিট : ১৪৯)

X
১০০ ডলার ছাড়িয়েছে তেলের ব্যারেল
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।
সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গতকাল সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের জুলাই মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর কিছুটা কমলেও বিশ্ববাজারে ফের বাড়ে তেলের দাম।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, গতকালই তেলের দাম ১০৫ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০১ দশমিক ৫৩ ডলার।
ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। এমন আভাস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা সরু জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় ইতিহাসের অন্যতম বড় বিঘ্ন ঘটেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তেলের দাম কোথায় গিয়ে যে ঠেকবে। গত রোববার একপর্যায়ে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, যদিও পরে তা ১০০ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল হয়।
ইতোমধ্যেই তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারার ব্যবস্থা করবে। তবে প্রশাসন সম্প্রতি স্বীকার করেছে, এই কাজের জন্য নৌবাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ইরানও হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন বসিয়েছে এবং হুমকি দিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো তেল ও গ্যাস স্থাপনায় তারা হামলা চালাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রণালিতে বেশ কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়েছে।