কারা বিভাগে শুদ্ধি অভিযান, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইজি প্রিজন্স

জাহাঙ্গীর আলম

জাতীয়

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক সরবরাহ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে আলোচিত বাংলাদেশের কারা বিভাগে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। দায়িত্ব

2026-03-16T17:10:33+00:00
2026-03-16T17:10:33+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
কারা বিভাগে শুদ্ধি অভিযান, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইজি প্রিজন্স
জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:১০ পিএম   (ভিজিট : ৬৮)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন
X

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক সরবরাহ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে আলোচিত বাংলাদেশের কারা বিভাগে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

গত ৫ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কারা বিভাগের বিভিন্ন স্তরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে কারাগারের ভেতরে মাদক সরবরাহ, বন্দি নির্যাতন ও নানা ধরনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কম গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন নিজ জেলা বা বিভাগে কর্মরত থেকে অনিয়মে জড়িয়ে পড়া কর্মচারীদের অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

কারা ক্যান্টিন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন কারাগারে ক্যান্টিনের আয়ের বড় অংশ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে চলে যেত বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইজি প্রিজন্স ক্যান্টিন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনেন। পণ্যের দাম কমানো, দৈনিক ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং সরাসরি তদারকি জোরদার করা হয়।

এর ফলে কক্সবাজার জেলা কারাগার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজীপুর জেলা কারাগার, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারাগারগুলোতে ক্যান্টিনের লভ্যাংশ আগের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই অর্থ বন্দিদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন। কারাগারে অসাধু কারারক্ষীদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ পাওয়া যেত— এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই অনিয়ম বন্ধ করতে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় বন্দিরা নির্ধারিত নম্বরে নিয়ম মেনে সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারেন। এতে অবৈধ মোবাইল ব্যবহার অনেকটাই কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কারাগারে মাদক প্রবেশ রোধে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।

সম্প্রতি কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি কারা অধিদপ্তরের। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশংসিত হয়েছে। অতীতে যেখানে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল, সেখানে এবার আর্থিক লেনদেন ছাড়াই অনেক দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়ে চাকরি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

কারা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হওয়ায় ক্ষুব্ধ কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কারা মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান আইজি প্রিজন্স দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এতে অনেকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

কারা বিভাগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন জেল সুপার ও জেলার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কারাগারের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে তারা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কারা অধিদপ্তরের নজরে এসেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারা বিভাগের কোনো সদস্য কর্মরত অবস্থায় অন্যায় বা অনিয়মে জড়িত থাকলে কারা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, আমরা মূলত কারাবন্দিদের নিয়ে কাজ করি। বন্দিদের জন্য কারা ক্যান্টিনে স্বাচ্ছন্দ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এসময় তিনি আরও বলেন, কারা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি খুলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব অপপ্রচার রোধে কারা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। যারা এ ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। অতীতে যারা এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy