
X
সংগৃহীত ছবি
লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যময়। যা রোজার শেষ দশকের (২৫, ২৭ ও ২৯) যেকোনো বেজোড় রাতে হতে পারে। শবে কদরের কারণে কুরআন নাজিলের মাস রমজানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
এ রাতেই মহান আল্লাহ জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন নাজিল করেছেন।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রজনি কী? মহিমান্বিত রজনি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রজনীতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রুহ তাদের প্রতিপালকের আদেশত্রুমে অবতীর্ণ হয়। এবং ভোর উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কেবল শান্তি আর শান্তি বিরাজ করে। (আল-কদর, আয়াত : ১-৫)
শবে কদর কী?
শবে কদর ফারসি শব্দ। শব অর্থ রাত। আর কদর অর্থ সম্মান, মর্যাদা। আরবিতে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আরবি ‘লাইলাতুন’ অর্থ রাত। কদর শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা। আরেক অর্থ ভাগ্য, পরিমাণ ও তকদির নির্ধারণ। রমজান মাসের শেষ দশদিনের যে কোনো বেজোড় রাতে, ‘শবেকদর’ ঘটে।
হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে কদর তালাশ করতে বলেছেন। এ হিসেবে রমজানের শেষ দশদিনের যেকোনো বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করা যায়। অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজান দিবাগত রাতগুলো। রমজানের শেষ দশকের পাঁচটি রাতে শবে কদর অনুসন্ধান করতে হয়।
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান করো। (বুখারি, হাদিস: ২০১৭; মুসলিম, হাদিস: ১১৬৯)
শবে কদরের ফজিলত
শবে কদরের ফজিলতের বিষয়টি কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এ রাতে ইবাদতের সৌভাগ্য লাভ করা হাজার মাসের ইবাদতের থেকে উত্তম।
হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের আশায় নামাজে দাঁড়ায় তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (বুখারি, হাদিস: ২০১৪; মুসলিম, হাদিস: ৭৬০)
শবে কদরে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির ও মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তওবা করা যায়।