
X
বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা।
আসন্ন ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর মিশনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প। কিন্তু ২৮ সদস্যের এই স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকেই দেশের ফুটবল অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় একটাই, কোথায় আনিসুর রহমান জিকো? লিগে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষকের বাদ পড়াটা অবাক করেছে অনেককেই। অবশেষে জিকোকে বাইরে রাখা এবং তরুণদের ওপর বাজি ধরা নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা।
আগামী ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজরা। এরপর ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। এই দুই ম্যাচকে সামনে রেখে সোমবার রাজধানীর গুলশানের রেনেসাঁ হোটেলে রিপোর্ট করেছেন ২৭ জন ফুটবলার (প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী সরাসরি ভিয়েতনামে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন)। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন স্প্যানিশ এই কোচ।
চলতি বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) বসুন্ধরা কিংসের হয়ে রীতিমতো দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন জিকো। তার দল ১১ ম্যাচে মাত্র একটি হার নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। ঘরোয়া লিগে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও প্রাথমিক স্কোয়াডে জিকোর জায়গা না হওয়াটা বিস্ময়কর। এ প্রসঙ্গে কাবরেরার সোজা-সাপটা উত্তর, ‘দলের ক্লিন শিট বজায় রাখা শুধু একজন গোলকিপারের একার কৃতিত্ব নয়। আমরা মূলত তরুণ গোলরক্ষকদের দিকে নজর দিচ্ছি।
ইশাক আকন্দ বেশ ভালো পারফর্ম করছে এবং আমাদের খেলার স্টাইলের সঙ্গে সে দারুণ মানানসই। সব মিলিয়েই ক্যাম্পের জন্য আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
দলে ডাক পাওয়া চার গোলরক্ষক হলেন মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, ইশাক আকন্দ ও মো. সুজন হোসেন। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক মেহেদী হাসান শ্রাবণের অন্তর্ভুক্তি। বসুন্ধরা কিংসে জিকো যেখানে নিয়মিত একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেখানে শ্রাবণ চলতি মৌসুমে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একটি ম্যাচে!
ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা শ্রাবণকে জিকোর চেয়ে কেন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে কাবরেরা নিজের ফুটবল-দর্শন তুলে ধরে বলেন, ‘দল নির্বাচন করাটা কখনোই সহজ কাজ নয়।
আর এটা সত্যি যে শ্রাবণের চেয়ে জিকো অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু আমার চোখে শ্রাবণ বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময় গোলরক্ষক। এমন একজন প্রতিভাকে জাতীয় দলে সুযোগ না দেওয়াটা আমার দিক থেকে চরম দায়িত্বহীনতা হতো। আমি একবারও বলছি না যে জিকো যোগ্য নয়, কিন্তু আমাকে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হতো এবং আমি সেটি নিয়েছি।’
এদিকে, জিকো-শ্রাবণ বিতর্কের পাশাপাশি কোচের নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে কৌতূহল। আগামী ৩১ মার্চ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে কাবরেরার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে তিনি কতটা আগ্রহী এমন প্রশ্নের জবাবে কাবরেরা ইতিবাচক সুরেই বলেন, ‘আমি অবশ্যই থাকতে চাই। এখন আমি ফেডারেশনের বক্তব্য শুনতে চাই, নিশ্চয়ই তারাও আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবে। দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতার চেয়ে তারুণ্য এবং বর্তমান ফর্মের চেয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপরই যে হাভিয়ের কাবরেরা বেশি আস্থা রাখছেন, দল নির্বাচনে সেটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, কোচের এই ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ মাঠে কতটা ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।