প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ২:৪৮ পিএম (ভিজিট : ৬৩)

X
ফাইল ছবি
বিশ্বজুড়ে যক্ষ্মা (টিবি) রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস’ নামের ব্যাকটেরিয়া শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গুরুতর সংক্রমণ ঘটায়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আশার খবরও মিলেছে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির দিকে যথাযথ নজর দিলে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা তাই প্রতিরোধে পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন।
যক্ষ্মা ও অপুষ্টির সম্পর্ক:
গবেষকরা জানাচ্ছেন, যক্ষ্মার চিকিৎসায় শুধু অ্যান্টিবায়োটিক যথেষ্ট নয়। ওষুধ তখনই ঠিকমতো কাজ করে, যখন রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে। যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া শরীরের পুষ্টি শুষে নিয়ে শরীরকে দুর্বল করে দেয়। ফলে যারা আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছেন, তাদের সুস্থ হতে অনেক বেশি সময় লাগে।
কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
১। ডায়াবেটিস, ক্যান্সার বা এইডস আক্রান্ত রোগীরা।
২। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
৩। যারা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকেন এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পান না।
সুস্থ হতে যা খাওয়া জরুরি:
১। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার : শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে অন্তত ১ গ্রাম প্রোটিন প্রতিদিন গ্রহণ করতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও দুগ্ধজাত খাবার তালিকায় রাখা জরুরি।
২। ভিটামিন ও খনিজ : পর্যাপ্ত পরিমাণে টাটকা শাকসবজি ও ফল খেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করা যেতে পারে।
৩। পরিচ্ছন্নতা : পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যক্ষ্মা প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান শর্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যক্ষ্মাকে জয় করতে হলে ওষুধের পাশাপাশি পাতে পুষ্টিকর খাবার রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।