
X
আমজাদ হোসেন
পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আমজাদ হোসেন। বিসিবির মিডিয়া কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এই সংগঠক।
এর ফলে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন দুজন পরিচালক। গত ২৪ জানুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ইশতিয়াক সাদেক।
রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমজাদ হোসেনের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. মোখছেদুল কামালকে। এর পরপরই ই-মেইলে বোর্ডের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন আমজাদ।
পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণের কথাই উল্লেখ করেছেন এই সংগঠক। তবে সংবাদমাধ্যমকে পদত্যাগ নিয়ে আমজাদ বলেছেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ চাইলে যে কোনও দায়িত্বে পরিবর্তন আনতেই পারে। আমাকেও মিডিয়া কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এই বোর্ডে যখন ভ্যালু অ্যাড করতে পারছি না, তখন আর পরিচালক পদে থাকারও কোনও মানে নেই।’
হঠাৎ করেই রোববার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আমজাদ হোসেন। ব্যক্তিগত কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। বিসিবির সবশেষ নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সেই নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন আমজাদ।
তিনি বলেন, ‘আমি তো আপনাদের সঙ্গে ৬ মাস কাজ করেছি। ৬ মাসের কাছাকাছি। অনেক সহজ-কঠিন প্রশ্ন করেছেন। এই প্রশ্ন তো আগে করেননি। আজকে আমি পরিচালক নেই, আজকেই কেন এই প্রশ্নটা? এটা হচ্ছে আমার প্রথম প্রশ্ন আপনার কাছে। আর প্রসেস নিয়ে আমি বলতে পারব না আমি তো ক্যান্ডিডেট। আমি ফর্ম কিনেছি, নির্বাচন করেছি এটাই আমার মূল দায়িত্ব ছিল। প্রসেস তো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের বিষয়।’
বিসিবির নির্বাচন আরও ভালো হতে পারত জানিয়ে আমজাদ বলেছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের অনেক ক্লাব থেকে প্রতিনিধি থাকত, এবার নেই। এবার একজন আছেন, একজন ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। অনেক ক্যান্ডিডেট নির্বাচন থেকে সরে গেছেন, এর আগে হয়তোবা এটা হয়নি। সব নির্বাচন নিয়ে অনেক শঙ্কা, পক্ষে-বিপক্ষে, বিতর্ক থাকে। এটা উনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন সরে গেছেন, সেভাবে দেখলে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছভাবে হয়ত হতে পারত। তবে আমি তো এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নই।’
যেকোনো নির্বাচনে প্রশ্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে বলেও উল্লেখ করেন সদ্য সাবেক এই বিসিবি পরিচালক, ‘এটা সব নির্বাচনই তো হতে পারে। অনেক পরাক্রমশালী দেশেও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠে থাকে। এটা তো চলমান প্রক্রিয়া। সামনেও বোর্ডে অনেক নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ওইটা থাকবেই। হয়তোবা আরও স্বচ্ছভাবে হলে হতে পারত।’
বোর্ডের কাজে কোনো প্রকার চাপ কি অনুভব করেছিলেন কি আমজাদ, ‘একদিন আগে আমি বোর্ডে ছিলাম, তখন বোর্ডের কাজ ভালো। এখন আমি বোর্ডে নেই, বোর্ডের কাজ খারাপ তা তো অবশ্যই না। আপনারা অবশ্যই বোর্ডের সমালোচনা করবেন, তবে অবশ্যই ভালো দিক আছে সেগুলোও তুলে ধরতে হবে। বোর্ড তো ভালো কাজ করছে।’