মায়ের ত্যাগে জীবন ফিরে পাওয়া সন্তানের আর্তনাদ, আমি ফিরলেও মা ফেরেনি

বুলেটিন ডেস্ক

জাতীয়

ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সাথে ঢাকা ফেরার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার শিকার হয় ১০ বছর

2026-03-28T12:53:59+00:00
2026-03-28T12:53:59+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
মায়ের ত্যাগে জীবন ফিরে পাওয়া সন্তানের আর্তনাদ, আমি ফিরলেও মা ফেরেনি
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ৪৭)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সাথে ঢাকা ফেরার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার শিকার হয় ১০ বছর বয়সী শিশু আলিফ মোল্লা। বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মা জ্যোৎস্না বেগম নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে ধাক্কা দিয়ে আলিফকে বাসের জানালা বা দরজা দিয়ে বের করে দিতে সক্ষম হন। তবে যাত্রীদের প্রবল চাপে তিনি নিজে আর বের হতে পারেননি। পানিতে ভাসতে থাকা আলিফকে এক পথচারী গামছা দিয়ে টেনে তুললেও, তার জীবনদাত্রী মাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে যাওয়ার এক হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত হয়ে রইল এই ঘটনা।

বেঁচে যাওয়া আলিফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, 'আমি আর আমার মা বাসের মধ্যে পাশাপাশি বসে ছিলাম। হঠাৎ বাস নদীতে পড়ে গেলে মা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। মানুষজনের চাপে মা বের হতে পারেনি। আমি পানিতে ভাসছিলাম। পরে একজন আমাকে গামছা দিয়ে টেনে তোলে। এরপর আর মাকে দেখিনি।'

জানাগেছে, নিহত জ্যোৎস্না বেগম রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একমাত্র ছেলে আলিফকে নিয়ে ঢাকার বাইপাইলে বসবাস করতেন। একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করে সংসার চালাতেন। আলিফও সেখানে একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন।

সরেজমিনে জ্যোৎস্না বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পরিবার। মেয়েকে হারিয়ে তার মা শাহেদা বেগম প্রায় পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। বারবার মেয়ের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, কখনো আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আলিফের নানি শাহেদা বেগম বলেন, '১৯ মার্চ ঈদের ছুটিতে আমার মেয়ে আর নাতি রাজবাড়ীতে এসেছিল। ২৫ মার্চ ঢাকায় ফেরার জন্য আমি নিজে তাদের বাসে তুলে দেই। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে আমার মেয়ে ফোন করে বলে- "মা, আমরা এখন ঘাটে।" কথা বলতে বলতে হঠাৎ চিৎকার শুনি। তখন সে বলে, "আম্মা, বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে।" এরপর আর কোনো কথা শুনিনি। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেলো।'

তিনি আরও বলেন, 'বাসের মধ্যে আমার মেয়ের সঙ্গে আমার নাতিও ছিল। আমার মেয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। কিন্তু নিজে আর বের হতে পারেনি।'

আলিফের মামি মিতা বেগম বলেন, 'আলিফ বেঁচে ফিরেছে, কিন্তু তার মা আর নেই। এখন তার আপন বলতে কেউ নেই। আমরা আছি ঠিকই, কিন্তু মায়ের জায়গা কি আর কেউ নিতে পারে?'





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy