তিনি বলেছেন, সবাই সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে এলে সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। অন্যথায় এত বড় স্বাস্থ্যখাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সোসাইটি অব সার্জনস আয়োজিত ‘সিএমই অন মেডিকেল এথিক্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক সমাজ দেশের একটি অত্যন্ত সম্মানিত পেশাজীবী গোষ্ঠী। তাদের সহযোগিতা ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত সহকর্মীদের মাঝেও এই বার্তা পৌঁছে দেন এবং সবাই মিলে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নয়, বরং জাতির কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি। স্বাস্থ্যখাতকে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপশাসনমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। তিনি উল্লেখ করেন, সন্ত্রাস বলতে কেবল শারীরিক সহিংসতা নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিয়ম ও অপব্যবহারও বড় ধরনের সমস্যা। চিকিৎসকদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের কোটি মানুষের উপকার হবে।
বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা, হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে এনআইসিইউ ও ভেন্টিলেশন সুবিধা স্থাপনের উদ্যোগসহ সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আলোচকরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ সময় সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন খানসহ দেশের খ্যাতনামা জ্যেষ্ঠ ও নবীন চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনটির সদ্য প্রয়াত সভাপতি অধ্যাপক এএমএসএম শরফুজ্জামান রুবেলকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।