
X
ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের কঠিন বৈতরণী পার হওয়া গ্রাহাম আর্নল্ডের জন্য নতুন কিছু নয়। তার কোচিংয়ে প্লেঅফে পেরুর বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াই টাইব্রেকারে জিতে চার বছর আগের বৈশ্বিক আসরে জায়গা করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এখন তিনি ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলতে না পারা ইরাকের কোচ। দলটির চার দশকের অপেক্ষার অবসান করার কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে।
আন্ত-মহাদেশীয় প্লে-অফের ফাইনালে আগামী বুধবার বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে ইরাক। এই ম্যাচটি জিতলেই বিশ্বকাপে খেলার টিকেট পেয়ে যাবে তারা। গত বছর ইরাকের দায়িত্ব নেন ৬২ বছর বয়সী আর্নল্ড। অস্ট্রেলিয়ান এই কোচের সামনে এখন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। তবে পথটি যে সহজ ছিল না, সেটি বললেন আর্নল্ড।
“এই দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমাকে বলা হয়েছিল, এটা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। ইরাক ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই দেশ ফুটবলে বুঁদ হয়ে থাকে, তাই এখানে প্রত্যাশার চাপও বিশাল।”
ইরাক বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেই দারুণ এক রেকর্ড গড়বেন আর্নল্ড। দুটি ভিন্ন পুরুষ দলকে বিশ্বকাপে তোলা প্রথম অস্ট্রেলিয়ান কোচ হবে তিনি।
সেই ১৯৮৬ সালে সবশেষ বিশ্বকাপের মূল আসরে খেলেছিল ইরাক। সেই যোগ্যতা আবার অর্জন করতে যে মুখিয়ে আছে দেশটির সবাই, সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন আর্নল্ড।
“২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পর দেশটির ওপর যে প্রভাব পড়েছিল, তা আমি ভুলিনি। ইরাকিদের সবার মানসিকতা একই, ফুটবলের প্রতি তারা অনেক আবেগী। যখনই ইরাকের বিপক্ষে খেলেছি বা কোচিং করিয়েছি, তাদের হারানো সবসময়ই কঠিন ছিল। আপনি হয়তো ভাবছেন, কেন তারা ৪০ বছর ধরে মূল আসরে যেতে পারছে না?”
দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে না থাকার পেছনে যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং সাদ্দাম হোসেনের ছেলে উদয় হোসেনের হস্তক্ষেপকে দায়ী করা হয়। ২০০৭ সালে এশিয়ান কাপ জিতলেও সেই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে আর্নল্ডের কোচিংয়ে এবার নতুন স্বপ্ন দেখছে ইরাক।
বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় ইরাক। সেই জয়ের পর বাগদাদের রাজপথে মানুষের উদযাপন দেখে মুগ্ধ আর্নল্ড।“দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১০ মাসের মধ্যে অন্তত সাত মাস বাগদাদে কাটিয়েছি, এখনকার সংস্কৃতি বোঝার জন্য। আমি কোথাও যেতে পারি না, কারণ যেখানেই যাই মানুষ এসে ভিড় জমায়-সবাই ছবি তুলতে চায়ৃ।”
“সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়ের পর বাগদাদের একটি ভিডিও আমি দেখেছিলাম, যেখানে সবাই পতাকা হাতে রাস্তায় মিছিল করছে এবং উদযাপন করছে। ওই জয় নিয়ে ভীষণ আবেগী হয়ে পড়েছি তারা, তাই ম্যাচ শেষে আমাকে বলতে হয়, আমরা এখনও (বিশ্বকাপ খেলার) যোগ্যতা অর্জন করিনি। দেশের জন্য এই কাজটি করতে খেলোয়াড়রা উন্মুখ হয়ে আছে।”