
X
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বা কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা এবং অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব সরকারি সংস্থাকে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
আলোচনায় থাকা পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
● সাপ্তাহিক ছুটিতে একদিন বাড়ানো
● সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ঘরে বসে কাজের সুযোগ
● অফিসের সময় এগিয়ে আনা বা মোট কর্মঘণ্টা কমানো
● শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালু
এছাড়া বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বিভিন্ন অফিসে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারে জোর দেওয়া, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি বা তার বেশি রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
তিন মাসের স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরকার আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলার সংকট—এই তিন কারণে সরকারকে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটতে হচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোও বড় লক্ষ্য।
এ কারণে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার এবং কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিদ্যুৎ খাতে বাড়ছে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তেল ও এলএনজি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশ এখন স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বাড়ছে এবং বিকল্প হিসেবে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
চাহিদা নিয়ন্ত্রণে জোর
বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ (ডিএসএম) কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন নিয়ন্ত্রণ, কমানো বা সময় পরিবর্তনের মাধ্যমে চাপ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি এবং প্রয়োজনে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকও ডাকা হতে পারে।