পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রার ১৫ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তৈরি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৩৪৬টি ঘটেছে সড়কে, যেখানে নিহত হয়েছেন ৩৫১ জন এবং আহত ১ হাজার ৪৬ জন। রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা শীর্ষে
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারও সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশ।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল ২৭.১৬ শতাংশ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ১৭.৭৩ শতাংশ, বাস ১৬.২২ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ১৫.২৮ শতাংশ এবং অন্যান্য যানবাহনও রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২ শতাংশ ফিডার রোডে।
একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানানো হয়।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করায় নীতিনির্ধারণে ঘাটতি রয়েছে। তিনি পরিবহন খাতে প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকার বিষয়েও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর নজরদারি, ফিটনেস যাচাই, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি।