মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ আয়োজনে পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
ডরপ-এর উপজেলা সমন্বয়কারী মো. শরিফুল আলম তুহিনের স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপকূলীয় অঞ্চলের পানি সংকট ও লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চল—বিশেষ করে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা—দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নারী ও মেয়েদের ওপর। পানি সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনমান ব্যাহত হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “নিরাপদ পানির সংকট নিরসন এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এনজিও ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
ওয়াটারএইড, নবলোক এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডরপ)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লালু সরদার, ওয়াশ বাজেট মনিটরিং ক্লাবের সভাপতি জি এম এম আজাহারুল ইসলাম এবং নবলোকের প্রজেক্ট ম্যানেজার বিএম নাহিদ হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপকূলীয় জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্পের সিএম মো. কওসার আলী, পৌরসভার প্রধান সহকারী শেখ জিয়াউর রহমানসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, সিএসও সদস্য, স্বাস্থ্য গ্রাম ও মা সংসদের সদস্য, নবলোকের যুব স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভার আগে একটি সচেতনতামূলক র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সভায় বক্তারা উপকূলীয় এলাকায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কার্যকর বাজেট বরাদ্দ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানান।