
X
: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটা দলের সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য মাসিক ভাতা চালুর মাধ্যমে। খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো চালু করেছে। এর আওতায় প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে সম্মানী দেওয়া হবে। তবে এই তালিকায় কোনো ক্রিকেটার নেই।
বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ক্রিকেটারদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে খেলাটিকে পেশা হিসেবে নিতে আরও আগ্রহ বাড়ত। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা ক্রিকেটাররা আস্থা পেতেন ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে!
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বিভিন্ন খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে রুমানা বলেন, ‘মেয়েদের কথা বলতে পারি। তারা বোর্ড থেকে বেতন পেলেও সেটি খুব বেশি নয়। তাই এই উদ্যোগে ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করা গেলে তাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হতে পারত। ক্রিকেটের সরঞ্জামের খরচ অন্যান্য খেলাধুলার তুলনায় বেশি। তাই ক্রিকেটারদের পেছনেও বিনিয়োগ জরুরি।’
ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বচ্ছলতার বিপরীতে অন্য খেলাগুলোর খেলোয়াড়দের সংকট বরাবরই বেশি। তারপরও ক্রিকেটারদের মাসিক ভাতায় আনা কেন উচিত, সেই ব্যাখ্যায় রুমানা বলেন, ‘ক্রিকেটারদের এর আওতায় আনার দরকার, কারণ অনেক ক্রিকেটার আছেন যারা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন। ভালো প্লেয়ার হলেও তারা নিজেদের সেভাবে এফোর্ট করতে পারেন না। ফলে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ভোগেন।
এতে পারফরম্যান্স নষ্ট হয়ে যায়। তারা যদি এই আওতার মধ্যে থাকত, মাসিক ভাতা পেত; সেক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হতো না। ক্রিকেট কেবল মাঠে খেলতে যাওয়া নয়, একজন ক্রিকেটারের অনেক সরঞ্জামও লাগে। অবশ্যই ক্রিকেটারদের পেছনেও বিনিয়োগ করা দরকার আছে।’
রুমানার মতে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে, ‘এটা আসলে খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। অনেক আগে থেকেই এটার দরকার ছিল। ভালো প্লেয়ার যারা ভাতা পাবেন, তাদের দেখে অনেকেই ভালো খেলতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। ফলে দলীয় ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে। এখন খেলোয়াড়রা নিশ্চিন্তে চাইলেই এটাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। এই প্রক্রিয়াতে শুধু প্লেয়াররা উপকৃত হবে তা নয়, পরিবার থেকেও খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে। বাসা থেকেও খেলতে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেবে। ক্রিকেটাররাও হয়তো এখন পাচ্ছে না, তবে আমি মনে করি সামনে তাদের রাস্তাটাও খুলবে।’
ক্রীড়াবিদদের নিয়ে অনুষ্ঠান মানেই যেন ভিন্ন এক আবহ। মাঠের বাইরেও থাকে ক্রিকেটারদের দাপট! চারপাশে তাদের ঘিরে ভিড়, উচ্ছ্বাস, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারাই। পুরস্কারের তালিকাও যেন তাদের নামেই ভরে থাকত। কিন্তু এবার দৃশ্যটা ছিল একেবারেই আলাদা। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে গিয়ে রুমানা আহমেদ যেন সেই পরিচিত চিত্রটা খুঁজেই পাননি। ক্রিকেট যেন কোথাও হারিয়ে গেছে!
এই ভিন্ন অভিজ্ঞতাই কিছুটা নাড়া দিয়েছে তাকে। রুমানা নিজেই বলছিলেন, ‘প্রোগ্রামটা দেখে একটু অবাকই হয়েছি। এই প্রথম ক্রিকেটারদের কোনো উপস্থিতি সেই অর্থে ছিল নাৃ।’
তার কথায় যেমন বিস্ময়, তেমনি আছে মিশ্র অনুভূতি, ‘অন্যান্য ইভেন্টের খেলোয়াড়দেরই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। একদিক থেকে বিষয়টা ইতিবাচকও; কারণ সাধারণত এমন অনুষ্ঠানে ক্রিকেটাররাই বেশি প্রাধান্য পায় এবং বেশিরভাগ পুরস্কার নিয়ে যায়। এবার সেটা হয়নি। তবে এটাও সত্য, গত দুই বছরে ক্রিকেটারদের উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন না থাকায় তাদের দিক থেকে বলার মতো কিছু ছিল না। যেটা একজন ক্রিকেটার হিসেবে একটু খারাপই লাগে।’