প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০০ পিএম (ভিজিট : ২৭)

X
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় কেঁপে উঠল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত শহীদ হাক্কানি বন্দরে ভয়াবহ এই বিমান হামলা চালানো হয় বলে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে।
হরমোজগান প্রদেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক উপ-গভর্নর আহমদ নাফিসি জানিয়েছেন, আক্রান্ত এই বন্দরটি মূলত সাধারণ যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি নাফিসি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত ১,৩৪০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। শহীদ হাক্কানি বন্দরের মতো একটি অসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা এই যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও থেমে নেই; তারা ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কেবল প্রাণহানিই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত, যেখান দিয়ে বৈশ্বিক তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। এই সংঘাতের ফলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এই ধারাবাহিক হামলা মূলত ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে তারা এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে যাত্রী ও বাণিজ্যিক বন্দরে আঘাত হানার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করছে ইরান।
বর্তমানে বন্দর আব্বাসের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং উদ্ধারকর্মীরা বিধ্বস্ত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শহীদ হাক্কানি বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হামলার মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার পরিকল্পনা করছে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট। তবে পাল্টা হামলা ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। আপাতত উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই সংঘাত দ্রুত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।