প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি এবং একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে এর বিকল্প নেই। বৃক্ষরোপণকে আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, উপযুক্ত প্রজাতির গাছ নির্বাচন, মানসম্মত চারা ব্যবহার এবং রোপণের পর সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে গাছের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। “১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০-৮৫টি গাছ যেন টিকে থাকে”—এ লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানান তিনি।
জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবারে নতুন সদস্য আগমন বা আনন্দঘন মুহূর্তে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এতে অল্প সময়েই একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশে বনভূমির ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ নতুন সড়ক প্রকল্পগুলোতেও পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচি সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জানান, এ বছর ১ এপ্রিল থেকেই ৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।