ইরানে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিখোঁজ ক্রু উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিস্তারিত জানুন এই দুঃসাহসিক মিশনের কাহিনি।

2026-04-05T11:37:50+00:00
2026-04-05T11:45:01+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে যেভাবে উদ্ধার করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম  আপডেট: ০৫.০৪.২০২৬ ১১:৪৫ এএম  (ভিজিট : ১৮৬)
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের ফ্লাইট ডেক থেকে একটি ই-২ডি হকআই নজরদারি বিমান উড্ডয়ন করছে।
X

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের ফ্লাইট ডেক থেকে একটি ই-২ডি হকআই নজরদারি বিমান উড্ডয়ন করছে।

ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই অভিযানে উন্নত কৌশল, নজরদারি এবং সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সাহসী ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ মিশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই অভিযান।

সংকটের সূচনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ইরানের ভেতরে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটিতে থাকা দুই ক্রু সদস্য ইজেক্ট করে আলাদা হয়ে পড়েন। একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজন নিখোঁজ থাকেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

নজরদারি ও কৌশলগত পরিকল্পনা
নিখোঁজ ক্রু সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করতে মার্কিন বাহিনী টানা নজরদারি কার্যক্রম চালায়। ধারণা করা হয়, তিনি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করে ইরানি বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

একই সময়ে বিভ্রান্তিমূলক কৌশলও প্রয়োগ করা হয়। ভেতরে ভেতরে এমন প্রচারণা চালানো হয় যে, নিখোঁজ ক্রুকে ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে—যার ফলে অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

রাতের অন্ধকারে অভিযান
উদ্ধার অভিযানটি পরিচালিত হয় গভীর রাতে। এতে অংশ নেয় মার্কিন বিশেষ বাহিনী, হেলিকপ্টার ও সি-১৩০ পরিবহন বিমান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে নিচু উচ্চতায় উড়ে অভিযান পরিচালনা করতে হয় হেলিকপ্টারগুলোকে।

অভিযান চলাকালে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুটি মার্কিন হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হয় এবং কয়েকজন সেনা আহত হন বলে জানা গেছে।

পাল্টা সংঘর্ষ ও উত্তেজনা
নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও তাকে খুঁজতে তৎপর ছিল। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানে সহায়তা দিতে আকাশে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। একই দিনে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও হামলার মুখে পড়ে, যদিও পাইলট নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন।

সফল উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা
শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ ওই ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। তিনি আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং তাকে ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের প্রশংসা করে একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। শত্রু ভূখণ্ডে সরাসরি অভিযান চালিয়ে ক্রু সদস্য উদ্ধারের ঘটনা সামরিক কৌশলের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সামগ্রিকভাবে, উন্নত প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সরাসরি সামরিক শক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযান চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।




  বিষয়:   ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  যুদ্ধবিমান  উদ্ধার অভিযান  আন্তর্জাতিক সংবাদ  সামরিক সংঘাত  মধ্যপ্রাচ্য 



Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy