জেনে নিন কোন টিকা কখন দিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক

স্বাস্থ্য

শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি

2026-04-05T19:58:08+00:00
2026-04-05T19:58:08+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
জেনে নিন কোন টিকা কখন দিতে হবে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৩৮)
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি

শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।

টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো। অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়।

সরকারি টিকা
সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। 

বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।

পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে। 

ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেওয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়। 

পিসিভি (নিউমোকক্কাস কনজুগেট ভ্যাকসিন): এই টিকা মূলত নিউমোকক্কাস নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) এবং রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে সুরক্ষা দেয়।

এমআর (মিজেলস রুবেলা): এটি এমন একটি টিকা, যা শিশুকে হাম ও রুবেলা- এই দুটি ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। হাম হলে শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি ও কাশি হয়। জটিল হলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে, শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে। অন্যদিকে গর্ভবতী মায়ের রুবেলা হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু টিকা নেওয়া থাকলে মায়ের এই ঝুঁকি থাকে না। 

ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস)/টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া)/ টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)/ ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস): শরীরের কাটা বা আঘাত থেকে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ ডিপথেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে এই টিকা দেয়া হয়।

র‍্যাবিস: কুকুর, বিড়াল, বানর ইত্যাদি আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক প্রতিকারে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের খরচেই টিকা কিনতে দেখা গিয়েছে। 

এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের সরকারিভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়ে থাকে। 

সরকারি টিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক বা টিকা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার সময় গ্রহণ করলে সরকার এর খরচ বহন করবে।

বেসরকারি টিকা
বেসরকারি টিকা হলো সেই সব টিকা, যা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, এগুলো মূলত শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। 

সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এসব টিকা কিনে প্রয়োগ করতে হয়। বেসরকারি টিকার মধ্যে রয়েছে।

রোটাভাইরাস: ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া যেতে পারে। 

ভারিসেলা: চিকেনপক্স বা জলবসন্ত থেকে সুরক্ষা পেতে এই টিকা ব্যবহার হয়।

হেপাটাইটিস এ: এই টিকা শিশুকে জন্ডিস বা লিভার সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর টিকা।

টিসিভি (টাইফয়েড কনজুগেট): শিশুকে টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টাইফয়েড মূলত বদহজম, খাবার বা নোংরা পানির মাধ্যমে ছড়ায়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা: এই টিকা শিশুকে সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথা ব্যথা থেকে রক্ষা করে। আবার যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশ জরুরি টিকা, এতে তার হাঁপানি ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এমএমআর (মিজেলস মাম্পস রুবেলা): হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়।

এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস): এই টিকা মেয়ে শিশু, কিশোরী ও নারীদের গর্ভাশয়ের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

মেনিনোকোক্কাল: মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া হয়।

ইটিইসি: কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া হয়। 

টিকাভেদে বেসরকারি টিকার দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ডোজ আনুমানিক এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। হাসপাতাল ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।





Loading...
Loading...


স্বাস্থ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy