
X
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান চুক্তিতে না এলে ‘এক রাতেই’ দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করার শর্তেই এই চুক্তি হতে হবে।
ট্রাম্পের নির্ধারিত ডেডলাইন হলো মঙ্গলবার রাত ৮টা (ওয়াশিংটন সময়), যা বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা। এই সময়সীমার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার শর্তে সমঝোতা চাওয়া হচ্ছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “পুরো দেশটাকে এক রাতেই শেষ করে দেওয়া যায়, আর সেই রাতটা হয়তো আগামীকালই।” তিনি আরও বলেন, ডেডলাইন অতিক্রম করলে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
যৌথ বাহিনীপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নেতারা ‘সৎ বিশ্বাসে’ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, তবে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।
অন্যদিকে ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, যোগাযোগ জটিলতার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান ও জবাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ইরানের কাছ থেকে জবাব পেতে গড়ে একদিন পর্যন্ত সময় লাগছে।” পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানের অবকাঠামোতে টানা হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা আইন উপদেষ্টা টেস ব্রিজম্যান বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন নন এবং দাবি করেন ইরানের জনগণ স্বাধীনতার জন্য কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনা করেন এবং বলেন, এই সংঘাতে ন্যাটোর ভূমিকা “কলঙ্কজনক”।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।