
X
ইরানে ভয়াবহ হামলা
ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানিদের ১২ ঘণ্টার জন্য ট্রেন না ব্যবহার করতে এবং রেলপথ থেকে দূরে থাকতে সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন রেললাইনে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানের তেহরান, কারাজ, তাবরিজ, কাশান এবং কোমসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কাশান শহরে একটি রেল সেতুতে হামলায় দুজন নিহত হয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কারাজে একটি রেললাইনে বিমান হামলার খবর দিয়েছে। ঘটনাস্থলে কর্মীরা একজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসার ভিডিও পোস্ট করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর বলেছেন, পশ্চিম কোম প্রদেশের স্থল পরিবহন সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের বরাতে আইআরআইবি আরও জানায়, তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কের একটি অংশ প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উপ-প্রধান বলেছেন, আহভাজ শহরের একটি সড়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।
আইআরএনএ প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার কারণে তাবরিজ ও জানজানের মধ্যবর্তী আরেকটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুরেহ চামান-মিয়ানে সড়কটি উভয় দিক থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানকে দেওয়া আলটিমেটামের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দেশটিকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনও ফিরে আসবে না।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এমনটাই হবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন দেখেছি, যেখানে ভিন্ন, আরও বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তাধারার মানুষরা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো ভালো কিছু ঘটতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব-বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এটি। ৪৭ বছরের অবৈধ জুলুম, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক!’