
X
প্রতীকী ছবি
দেশজুড়ে হাম-এর প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চিকিৎসকরা বলছেন, সর্দি-কাশি বা জ্বর হলেই সেটিকে হাম ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে মৌসুমী সর্দি-জ্বরের প্রকোপই বেশি দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার জন্য অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলাতেই কিছুসংখ্যক শিশু হাম আক্রান্ত হলেও, এর চেয়ে বেশি শিশু সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর ও নাক দিয়ে পানি পড়ার সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অভিভাবকরা অনেক সময় নিজেরাই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে শিশুদের খাওয়াচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ সর্দি-কাশি বা ভাইরাসজনিত জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শিশুর শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এই সময়ে হাসপাতাল ও শিশু বিশেষজ্ঞদের চেম্বারে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নাক দিয়ে পানি পড়ার উপসর্গ নিয়ে।
দেশের জ্যেষ্ঠ শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, ঋতু পরিবর্তনের ফলে শিশুদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে হামও শনাক্ত হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জ্বরের সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া সাধারণত ভাইরাসজনিত, ব্যাকটেরিয়াজনিত নয়। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে সাধারণত জ্বর থাকে, কিন্তু নাক দিয়ে পানি পড়ে না।
তিনি আরও বলেন, শুধু সর্দি-কাশি ও জ্বর থাকলেই হাম বলা যাবে না। সাধারণত টানা চার দিনের জ্বরের পর শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলে সেটিকে হাম হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
অন্যদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি উদ্দিন পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে শিশুদের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপই যথেষ্ট হতে পারে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি জানান, প্রতিদিন তাঁর চেম্বারে প্রচুর শিশু সর্দি-কাশি ও জ্বর নিয়ে আসছে, কিন্তু হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তাই অভিভাবকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের সঠিক যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে, যা স্বাভাবিক। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে যেকোনো অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে হাম প্রতিরোধে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।