
X
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে বুলবুল একে ‘ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি এবং আইনগতভাবে ভিত্তিহীন’ একটি দলিল বলে উল্লেখ করেন। বিসিবির গঠনতন্ত্র বা আইনে এর কোনো ভিত্তি নেই জানিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘হাইকোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কমিটির প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার মতে, নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাড-হক কমিটি গঠন একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান।’
আমিনুলের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদকে এনএসসি ভেঙে দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসব দাবি তোলার পাশাপাশি আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
নির্বাচনে দুর্নীতি, কারচুপি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সব দাবি অস্বীকার করে তিনি জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর গঠিত তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে গঠিত ওই কমিশনে আরও ছিলেন সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক।
বুলবুল জানান, ১৫টি ক্লাব এবং তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ সংক্রান্ত আপত্তিগুলো ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আধা-বিচারিক (কোয়াসি-জুডিশিয়াল) শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময় ৬ অক্টোবরই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সম্পন্ন হওয়া নির্বাচন নিয়ে তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার এনএসসির নেই বলে দাবি করেন বুলবুল। এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ক্রিকেট বোর্ডের স্বাধীনতার নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বুলবুল বলেন, এটি বিসিবির গঠনতন্ত্রের ‘ক্ষমতাবহির্ভূত’এবং সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এই অ্যাডহক কমিটিকে একটি ‘ভুয়া সত্তা’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোর্ড এর কোনো কর্তৃত্ব স্বীকার করে না।
বুলবুল সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। এর ফলে বোর্ডের পরিচালনা, বিনিয়োগ এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির পাশাপাশি যুব পর্যায়ে খেলোয়াড় উন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন বুলবুল।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে দেয় এনএসসি। একই সঙ্গে বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা এবং নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে তামিম ইকবালকে প্রধান করে তিন মাসের ম্যান্ডেটসহ ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। এরপরই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানান বুলবুল।