জ্বালানী সংরক্ষণে সক্ষমতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ-বানিজ্য

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-তে 'বৈশ্বিক জ্বালানী সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ' শীর্ষক

2026-04-09T19:24:18+00:00
2026-04-09T19:24:18+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
জ্বালানী সংরক্ষণে সক্ষমতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম   (ভিজিট : ৫৩)
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান
X

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-তে 'বৈশ্বিক জ্বালানী সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

শিল্প-কারখানায় পণ্য উৎপাদন, বিপণন, পরিবহণসহ জন-জীবনের সকল ক্ষেত্রে জ্বালানির বিষয়টি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বিশেষকরে জ্বালানিখাতে আমাদের সক্ষমতার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে, যেখানে এখাতে দীর্ঘদিনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অভাবের বিষয়টি বেশ স্পষ্ট। দেশের সকল স্তরের দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অফশোর ও অনশোরে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্কহার হ্রাস, এখাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান সহ সর্বোপরি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা একান্ত অপরিহার্য বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমদে। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)  বাংলাদেশ সাসটেইনাবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি এসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) এবং ইনফ্রাস্ট্রাচকার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (ইডকল)-এর সহায়তায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত 'বৈশ্বিক জ্বালানী সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

আলোচনা সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান প্রধান অতিথি এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ আব্দুর রহিম খান ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর সদস্য (বিদ্যুৎ) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব:) উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বিশ্বের ২০% তেল এবং ২৫%-এর বেশি এলএনজি বাণিজ্য প্রতিদিন হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এবং বাংলাদেশ মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫% আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৯০% আসে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটের কারণে আমাদের জ্বালানি খাত বর্তমানে একটি নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষকরে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত ক্রমশ কমে যাচ্ছে, যা দ্রুত আমদানির মাধ্যমে সমাধান করা না হলে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অন্যান্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা দিতে পারে বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন| 

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বছরে অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয় এবং যদি তেলের দাম ১২০ ডলারের উপরে ওঠে, তবে অতিরিক্ত জ্বালানি খাতে খরচ বাড়বে বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার বা ৬১০ বিলিয়ন টাকা, ফলে সরকারের লোকসান বাড়বে পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ˆতরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০% হ্রাস পেয়েছে, প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় ২৫-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতি কন্টেইনার অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪,০০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে এবং সর্বোপরি জীবনযাত্রায় ব্যয়ের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিদ্যমান জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি সরবরাহ, সংগ্রহ ও স্বল্পমেয়াদী কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাসকীন আহমেদ।    

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে শিল্প সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের জ্বালানি প্রাপ্তির স্বল্পতা অনেক দিন ধরেই রয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এটিকে আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছ। আগামী জুন পর্যন্ত কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য দেশে ৬ লক্ষ মেট্রিকটনের সার মজুদ রাখা প্রয়োজন, যদি গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ঘাটতি থাকবে প্রায় ৪ লক্ষ মেট্রিকটন জানান, শিল্প সচিব। তিনি বলেন, এখাতে আমলাতান্ত্রিক দূর্ঘসূত্রিতা হ্রাসে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার, তবে গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের সক্ষমতা যেমন কম, সেই সাথে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়াতে শৈথিল্যতার বিষয়টি বিদ্যমান রয়েছে, যা বেগবান কর প্রয়োজন| সচিব জানান, বিদ্যুৎ চালিত যানবাহন বিষয়ক একটি নীতি সম্পন্নের শেষ পর্যাায়ে রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়, যা শীঘ্রই চুড়ান্ত করা হবে। 

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমাদের রাজস্ব নীতিমালা অনেকক্ষেত্রে ভোক্তা সহায়ক নয়, যার সংষ্কার প্রয়োজন| এছাড়াও শিল্প মন্ত্রনালয়াধীন রুগ্ন শিল্প-কারখানা গুলোকে পুনঃজ্জীবিত করতে স্থানীয় ও ˆবদেশিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শিল্প সচিব।   

এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মোঃ আব্দুর রহিম খান বলেন, সাম্প্রাতিক সময়ের জ্বালানি সংকট প্রতিটি মানুষের জীবনজীবিকায় প্রভাব ফেলছে এবং এ সংকট মোকাবেলায় এখাতের গ্রহণযোগ্য তথ্য নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে যথাযথ স্ট্রাটেজি প্রণয়ন ও বাস্তাবায়ন জরুরী| জ্বালানির সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ ও নাবয়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদ্যমান শুল্ক হার প্রত্যাহারের উপর তিনি জোরারোপ করেন। সেই সাথে নতুন নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর ও জ্বালানি আমদানি উৎসের বহুমুখীকরণের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। 

বিইআরসি-এর সদস্য (বিদ্যুৎ) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব:) বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলার একটি কার্যকর পন্থা হতে পারে, তবে শিল্প সহ অন্যান্য খাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশো ও অনশোরে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর বিকল্প নেই।   

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক, বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জি. মোঃ সিরাজুল মাওলা, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)-এর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাজমুল হক, বাপীর-এর উর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম. মোসাদ্দেক হোসেন, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (কমার্শিয়াল অপারেশন) মোহাম্মদ নুরুল আবসার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. এম. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন প্রমুখ অংশ গ্রহণ করেন|

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের সংষ্কারের মাধ্যমে ভর্তুকি হ্রাসের উপর জোর দেওয়া আবশ্যক| তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার উৎসাহিত করতে বিশেষকরে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক বাড়াতে এনবিআরকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রেরণ করবে|   

বিএসআরইএ’র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জ্বালানি নিরপত্তা নিশ্চিতে সরকরের রাজনৈতিক ¯^দিচ্ছার কোন বিকল্প নেই, তবে এক্ষেত্রে ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে| তিনি এখাতের এসএমই উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়দী ¯^ল্প সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন| সৌর বিদ্যুতর খাতের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে বর্তমানে প্রায় ২৭-৩০% শুল্ক রয়েছে, যা এখাতের অগ্রগতিতে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করেন বিএসআরইএ উর্ধ্বতন সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম। 

সৌর বিদ্যুৎখাতে ব্যবহৃত ব্যাটারি আমাদনিতে কমপক্ষে ১বছরের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করেন বাপীর-এর উর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এম. মোসাদ্দেক হোসেন।

ইডকলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, এ সংকট মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ বেশি ব্যবহারের কারণে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটে দেশগুলোর ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে কম, তবে আমাদের দেশে এ পরিস্থিতি ভিন্ন| তিনি বিদ্যুৎ খাতের সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান, সেই সাথে এলসিডি পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে মত প্রকাশ করেন| সামগ্রিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর বেশি হারে গুরুত্ব দেওয়া এবং এর উৎপাদান বাড়ানোর উপর তিনি জোরারোপ করেন।

ইঞ্জি. মোঃ সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি’র সরবরাহের অভাবে দেশে ইতোমধ্যে অনেক স্টেশন ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে, এখাতের দীর্ঘমেয়াদে একটি মাষ্টারপ্ল্যান থাকা ও আমাদানি উৎসের বহুমুখীকরণ প্রয়োজন| সৌর বিদ্যুৎখাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের কোন বিকল্প নেই বলে অভিমত জ্ঞাপন করেন|  

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আবসার বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পিডিবি’র ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকা ছিল, এর প্রধান কারণ হরো জ্বালানি উৎপাদন খরচ অনেক বেশি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম আরো বৃদ্ধি পেলে ভর্তুকি বাড়াবে, এ অবস্থা উত্তরণে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর অধিক হারে গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।

ড. এম. শামসুল আলম বলেন, আমাদের জ্বালানি নিরপত্তা বিপর্যস্ত পর্যায়ে রয়েছে, তা মোকাবেলায় সরকার কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা যথাযথ নয়| বিগত সরকারের আমালে এখাতের কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে আজকের এ বিপর্যয় ˆতরি হয়েছে এবং বর্তমান সরকারকে এর সংষ্কারে আরো উদ্যোগী হতে হবে তিনি মত প্রকাশ করেন। জ্বালানি বিষয়ক রেগুলেটরি কমিশনকে সক্ষমতা বাড়ানোর এবং ঘাটতি কমাতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা বাড়ানোর আহ্বান জানান শামসুল আলম।  

অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সাধারণ বছরের ৩-৪ বার জ্বালানির মূল্য হ্রাস পায়, আমাদের জ্বালানি সংরক্ষনে সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমরা স্বল্পমূল্যের সময়ে অধিকহারে জ্বালানির ক্রয় করে ভর্তুকি কমাতে পারি| সেই সাথে সর্বোপরি এখাতে একটি সত্যিকারের ইকো-সিস্টেম নিশ্চিতের উপর তিনি জোরারোপ করেন|   

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো: সালিম সোলায়মান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ সহ জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও সরকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন|





Loading...
Loading...


অর্থ-বানিজ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy