ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বহু মার্কিন ঘাঁটি ‘অকেজো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের পাল্টা আক্রমণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের

2026-04-10T20:37:35+00:00
2026-04-10T20:37:35+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বহু মার্কিন ঘাঁটি ‘অকেজো’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ৬৬)
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি
X

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি

ইরানের পাল্টা আক্রমণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাঁটিগুলো এখন সুরক্ষার বদলে উল্টো নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে আরব সেন্টারের বার্ষিক সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞ এই মত প্রকাশ করেন। এর আগে গত মাসে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই ঘাঁটিগুলোকে ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ স্বীকার করেনি।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির প্রজেক্ট অন মিডল ইস্ট পলিটিক্যাল সায়েন্স-এর পরিচালক মার্ক লিঞ্চ বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান আধিপত্যের যে ভৌত কাঠামো ছিল, ইরান মাত্র এক মাসের মধ্যে সেটিকে কার্যত অকেজো করে দিয়েছে। আমরা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির কোনও সঠিক চিত্র দেখতে পাচ্ছি না।’

তিনি আরও জানান, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরটিও এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। লিঞ্চের মতে, ওই এলাকায় পুনরায় পঞ্চম নৌবহরকে মোতায়েন করার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, ‘এক অর্থে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যে উদ্দেশ্য ছিল, তা ধসে পড়েছে এবং এর বিকল্প কোনও চিন্তাও আমাদের কাছে নেই।’

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি স্বীকৃত সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকে। ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তার যে ‘চুক্তি’ হয়েছিল, বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি। ইরানকে রুখতে গিয়ে এসব দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত ফুরিয়ে এসেছে, বন্ধ রাখতে হয়েছে বিমানবন্দর ও স্কুল। এমনকি সম্প্রতি তাদের জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতেও ইরানি হামলা হয়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক শানা আর মার্শাল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, সেটি সামরিক ঘাঁটি হোক কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, এখন সুবিধার চেয়ে আপদ হিসেবেই বেশি গণ্য হচ্ছে।’ তিনি ১৯৯৬ সালের খোবার টাওয়ার হামলা এবং ওসামা বিন লাদেনের ক্ষোভের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি বরাবরই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, গত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে এটি পরিষ্কার যে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছে না। চলতি সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র স্থাপনাগুলোর ওপর ইরানি হামলা বন্ধের বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অঙ্গীকার না থাকায় ওই অঞ্চলের দেশগুলো এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ শিকার হিসেবে মনে করছে।

পারসি আরও বলেন, ‘মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলা ঠেকাতে পারেনি, বরং সেগুলো হামলার প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে আমেরিকান নিরাপত্তা ছত্রছায়ার ওপর নির্ভরশীলতা এখন চুরমার হয়ে গেছে।’





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy