
X
সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস করছেন রাশিদ খান (মাঝে)।
আফগানিস্তানের জার্সিতে ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার লক্ষ্যে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের উপস্থিতি কমানোর পথে হাঁটতে যাচ্ছেন রাশিদ খান। বছরে স্রেফ একটি টেস্ট খেলার কথা ভাবছেন তারকা এই লেগ স্পিনার। চিকিৎসকের পরামর্শেই এমন চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে তার মাথায়।
২০২৩ সালে পিঠে চোট পাওয়ার পর রাশিদকে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সেরে ওঠার পর সাদা পোশাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই সংস্করণে সবশেষ খেলেছেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
বুলাওয়ায়োর ওই লড়াইয়ে দুই ইনিংসে ৫৫ ওভার বোলিং করেন রাশিদ। স্বাগতিকদের ৭২ রান হারানোর পথে ম্যাচে মোট সাত উইকেট নিয়ে হন সেরা খেলোয়াড়। ১৫ মাস আগে খেলা ম্যাচটির কথা স্মরণ করে রাশিদ বলেন, “আমি ৬৭ ওভার বোলিং করেছিলাম, যেটা ছিল রীতিমত পাগলামি।”
রাশিদের এমন কাণ্ডের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এভাবে টেস্ট খেলা চালিয়ে গেলে তার ক্যারিয়ারই যে শেষ হয়ে যেতে পারে, সেই সতর্কবার্তাও পেয়েছেন তিনি,‘ চিকিৎসক আমাকে এভাবে বলেছিলেন যে, ‘তুমি যদি ক্রিকেট খেলতে না চাও, তাহলে লাল বলের ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাও। কারণ এটা তোমার শরীর সইতে পারবে না। বেশিদিন আফগানিস্তানের হয়ে খেলতে পারবে না।’ আমি তাও মাঠে নেমেছি, খেলেছি। যখন তিনি জানতে পারলেন আমি দুই ইনিংসে ৬৭ (৫৫) ওভার বোলিং করেছি, স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, ‘নিজেদ সঙ্গে এমনটা তুমি করতে পারো না।’ এখন এই বিষয়টি নিয়ে ভাবব আমি।’
২৭ বছর বয়সি রাশিদের ২০১৮ সালে টেস্ট অভিষেক। এই সংস্করণে স্রেফ ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০.৪৪ গড়ে নিয়েছেন ৪৫ উইকেট। পিঠের চোট যখন ধরা পড়ল রাশিদের, তখন দুয়ারে ছিল ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আফগানদের হয়ে খেলতে অস্ত্রোপচার না করা সিদ্ধান্ত নেন তিনি ওই সময়। যা বোলার হিসেবে তার ধার অনেক কমিয়ে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তীব্র ব্যথাও সইতে হয়েছিল তাকে।
তাই এখন ক্যারিয়ার নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবছেন রাশিদ। আগামী জুনে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি না খেলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি,‘ ইতোমধ্যে একটি খেলেছি। তাই, এখন একটু ধীরে এগোব। নিজেকে (২০২৭ ওয়ানডে) বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করতে চাই। ধরুন, ওই টেস্ট ম্যাচে যদি পিঠে আবার চোট পাই। আমি তো আর ১০০টি টেস্ট খেলতে পারব না। যদি বছরে একটি করে টেস্ট খেলি, আমি তো আর একশ বছর খেলতে পারব না। আর টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে এখন আমার কোনো নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই।’
এখন আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে খেলছেন রাশিদ। বুধবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ১ রানের রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচে ১৭ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। আইপিএল শেষে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন আফগানিস্তানের ‘পোস্টার বয়’। পিঠের চোট এড়াতে বছরে একটি টেস্ট খেলাই যথেষ্ট মনে করছেন তিনি।
“হ্যাঁ, ওয়ানডে ক্রিকেট আমি উপভোগ করি। আফগানিস্তানের হয়ে দীর্ঘদিন ওয়ানডে খেলার মতো অবস্থায় আছি। তবে সতর্ক থাকতে হবে, কতগুলো ম্যাচ খেলছি এবং নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিচ্ছি কি-না। লম্বা সময় ধরে খেলতে চাইলে সতর্ক থাকতে হবে।”
“বিশেষ করে, লাল বলের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া আমার জন্য কঠিন। হ্যাঁ, বছরে একটি টেস্ট খেলা যায়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি খেলা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না, তবে আমি চেষ্টা করব। একটির বেশি খেলা সম্ভব যদি আমাকে মাত্র ২০-২৫ ওভার বল করতে হয়। কিন্তু দলে থাকলে তো আমাকে সারাদিন বল করতে হবে। গত দুটি টেস্ট ম্যাচে তাকালে দেখা যাবে আমি ১৬৭ (১৫৪.২) ওভার বল করেছি, যা আমার মতে অনেক বেশি।”