লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান থেকে ধারাবাহিকভাবে ভারী বোমা হামলা চালানো হয় নাবাতিয়েহ শহরে। এসব হামলার একটি শহরের সরকারি কমপ্লেক্স সংলগ্ন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কার্যালয়ে আঘাত হানে, যেখানে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হামলার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরও বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে তৎপর ছিলেন।
এই হামলা এমন সময়ে সংঘটিত হলো, যখন লেবানন সরকার আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চের শুরু থেকে চলমান সংঘাতে লেবাননে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৬৩ জন শিশু রয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও মতবিরোধ স্পষ্ট। সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতা সীমিত করার ঘোষণা দিলেও সংগঠনটি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাসেম দাবি করেছেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ৪ হাজার ৩০০টির বেশি স্থাপনা ধ্বংস করেছে এবং ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ১২ জন সেনা নিহত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সীমান্ত অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলাও অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহ প্রায় ৩০টি রকেট নিক্ষেপ করলে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। এতে সাফেদ শহরে কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গ্যালিলি অঞ্চলের বান্না ও দেইর আল-আসাদ এলাকায় একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আশদোদ শহরের একটি নৌঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাবে লেবাননে মানবিক সংকটও তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে জানিয়েছে, সামরিক অভিযানের কারণে দেশটিতে খাদ্য সংকট দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সংস্থাটির লেবানন বিষয়ক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অ্যালিসন ওমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু বাস্তুচ্যুতি নয়, দ্রুতই তা খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।