
X
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত টানা ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দল শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে ফিরে গেছে।
এই ব্যর্থতার কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের বক্তব্য থেকে আলোচনার ভেস্তে যাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে অচলাবস্থা
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল যে তারা ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
তবে ইরান এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে রাজি হয়নি। তারা শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত কিছু ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান তেহরানের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে ওঠেনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ
দ্বিতীয় বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ।
যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথকে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানায়। কিন্তু ইরান এই প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
ইরানের দৃষ্টিতে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে এই নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টাকে তারা সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
কৌশলগত চাপ ও ‘আত্মসমর্পণ’ ইস্যু
তৃতীয় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আলোচনার কৌশলগত দিক। ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার মাধ্যমে আদায় করার চেষ্টা করেছে।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো অনেকটাই একপাক্ষিক এবং ‘আত্মসমর্পণের’ মতো ছিল।
ইরান আরও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার সীমিত করতে চাইছে, যা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
যুদ্ধবিরতি নিয়েও অনিশ্চয়তা
এই তিনটি বড় ইস্যুতে অচলাবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ইসলামাবাদ ত্যাগের আগে জে ডি ভ্যান্স মন্তব্য করেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্য বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।