ডোপ টেস্টে পজিটিভ ভারোত্তোলক মাবিয়া ২ বছর নিষিদ্ধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধুলা

গত বছরের সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে ডোপ পরীক্ষার জন্য মাবিয়া আক্তার সীমান্তের নমুনা নেওয়া

2026-04-12T20:01:54+00:00
2026-04-12T20:01:54+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ডোপ টেস্টে পজিটিভ ভারোত্তোলক মাবিয়া ২ বছর নিষিদ্ধ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০১ পিএম   (ভিজিট : ১২)
ডোপটেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হওয়া মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এখন তাকিয়ে বিওএর দিকে
X

ডোপটেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হওয়া মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এখন তাকিয়ে বিওএর দিকে

গত বছরের সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে ডোপ পরীক্ষার জন্য মাবিয়া আক্তার সীমান্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল। সে পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ ফল এসেছে। তাতে শাস্তির খড়গও নেমে এসেছে সোনাজয়ী এই ভারোত্তোলকের উপর। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা ওয়াডা দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে মাবিয়াকে।

নিষেধাজ্ঞার চিঠি এসেছে গত বৃহস্পতিবার। গেমস শুরুর আগে ২৯ অক্টোবর নেওয়া নমুনার পরীক্ষায় মাবিয়ার শরীরে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। যে ওষুধ মূলত শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার কাজ করে। কিন্তু এই ওষুধ ওয়াডার তালিকায় নিষিদ্ধ।
গত বছরের নভেম্বরে রিয়াদের এই টুর্নামেন্টের আগে মাবিয়ার পায়ে পানি জমতে শুরু করে। এ কারণে তিনি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমকে এই ভারোত্তোলক তুলে ধরলেন ঘটনাপ্রবাহ।

“টুর্নামেন্টের আগে পায়ে পানি জমতে শুরু করেছিল। এমনও হয়েছে, সিরিঞ্জ দিয়ে সেই পানি বের করতে হতো। আমাদের ভারোত্তোলকদের আর্থিক অবস্থা তো সবাই জানেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যায়, কিন্তু আর্থিক কারণেই আমি দেশে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি তো আর জানি না, কোন ওষুধ নিষিদ্ধ। যে ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ নিয়েছিৃসব প্রেসক্রিপসন আমার কাছে আছে। আমি বিওএ’তে (বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন) সেগুলো আগেও দিয়েছি।”

“আমাদের যে এন্টি ডোপিং সেমিনার হয়, সেখানেও আমাদের সবসময় বলা হয়, ডাক্তারের প্রেসক্রিপসনের বাইরে ওষুধ না খেতে। আমিও সেটা অনুসরণ করেছি। কেননা, আমার তো জানার কথা নয়, কোনটাতে কোন সমস্যায় পড়তে পারি। আমি লুকিয়ে কোনো ওষুধ খাইনি। অথচ, এখন আমার উপরেই নিষেধাজ্ঞা এলো।”

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করা নিয়েও দোটানায় মাবিয়া। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশেকে দারুণ সব মুহূর্ত এনে দেওয়া এই ভারোত্তোলক এখন তাকিয়ে আছেন বিওএর দিকে। আপিল করার কথা ভেবেছি, কিন্তু আর্থিক দিকও ভাবতে হচ্ছে। আপিল লড়ে যাওয়া ব্যয়বহুল বলে জানি। এখন এই খরচ যদি বিওএ দেয়, তাহলে আমার পক্ষে লড়ে যাওয়া সম্ভব। আমার তো এত আর্থিক সামর্থ্য নেই। যদি আমাকে সব খরচ বহন করতে হয়, তাহলে হয়তো আপিল করতে পারব না। সেক্ষেত্রে শাস্তি বহন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না আমার।”

২০১২ সালে জাতীয় দলে ক্যারিয়ার শুরু করা মাবিয়া এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঁচবার সোনা এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে (দক্ষিণ এশিয়ান গেমস) টানা দুবার সোনা জেতেন তিনি।

নিষিদ্ধের চিঠি হাতে পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মাবিয়া। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, “যে কারণে আমাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাতে আমার কোনও দোষ নেই। আমি প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ নিয়েছি। আমার হাঁটু ফুলে গিয়েছিল। অলিম্পিকের ডাক্তার বলেছিল সমস্যা হবে না। এখানে আমার কী দোষ?”

টানা দুই গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী এই ভারোত্তোলক বলেন, “আমার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে আগে কখনও এমন হয়নি। কোন ওষুধ খেতে হবে, তা তো অলিম্পিক থেকেই বলে দেওয়া হয়। এবারও ডাক্তার নিজেই বললেন সমস্যা হবে না। এখন আমার স্যাম্পল নাকি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। আসলে আমি বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে।”

নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন মাবিয়া। তিনি বলেন, “আমি আপিল করবো। লড়াই করবো। কারণ আমি নির্দোষ। এখানে আমার কোনও ভুল নেই। ভুল হলে অলিম্পিকের ডাক্তার শফিকের। তিনি আগে থেকেই আমাকে পছন্দ করেন না। তা না হলে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ার পর এমনটি কেন হবে? তখন যদি বলতেন, আজ আমার এই দশা হতো না। এখানে আমার দায় কোথায়?”

অপরদিকে, পুরো ঘটনার দায় মাবিয়ার ওপরই দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “বড় গেমসের আগে আমরা অ্যাথলেটদের ডোপ টেস্ট করি। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে ২৬ জনের নমুনা নেওয়া হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে জানতে পারি মাবিয়ার ফল পজিটিভ এসেছে। আমরা তাকে বিষয়টি জানাই এবং জানতে চাই কেন সে আগে আমাদের জানায়নি। সাধারণত কনসালট্যান্টদের প্রেসক্রিপশন আমরা যাচাই করে দিই—কোনটা নিষিদ্ধ, কোনটা খাওয়া যাবে। তার ভুল হয়েছে, সে আমাদের জানায়নি।

 আমাদের ফোন করলেই পারত। এমনকি টেস্টের সময়ও সে প্রেসক্রিপশন দেখায়নি।”
উল্লেখ্য, মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ২০১০ সালে মামার হাত ধরে ভারোত্তোলনে আসেন। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২০১৬ দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সোনা এনে দেন। ২০১৯ সালে নেপালের পোখারায় আবারও স্বর্ণ জিতে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হন। কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ইসলামিক সলিডারিটি গেমসেও তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি তুলে ষষ্ঠ হন।
২৬ বছর বয়সী এই দেশসেরা ভারোত্তোলককে এখন নতুন করে ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে।








Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy