প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৩ পিএম (ভিজিট : ৩০৬)

X
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিতব্য “বাণিজ্য মেলা ২০২৬” ঘিরে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি মানবিক সিদ্ধান্ত। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে মেলায় উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম, মাইকিং এবং গান-বাজনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, মেলা আয়োজনের জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম মহিলা চেম্বার অব কমার্সের পক্ষে প্রধান নির্বাহী জি এ রায়হান প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) এবং সাধারণ সম্পাদক, বিআরসিবি’র নিকট একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আগামী ১৮ মে ২০২৬ পর্যন্ত মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে মাঠ বরাদ্দ প্রদান করে।
কিন্তু মেলার নির্ধারিত স্থানসংলগ্ন এলাকায় তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবস্থিত এবং সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে—এ বিষয়টি সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়। বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনায় এনে সিনিয়র আয়কর আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) ও সভাপতি, বিআরসিবি’র নিকট একটি লিখিত আবেদন জানান। আবেদনে তিনি পরীক্ষার্থীদের সম্ভাব্য শব্দদূষণ, যাতায়াতে বিঘ্ন এবং মনোসংযোগে ব্যাঘাতের আশঙ্কা তুলে ধরে মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।
এর প্রেক্ষিতে মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মো. সুবক্তগীন বিষয়টি মানবিক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করেন। সম্পূর্ণ মেলা বন্ধ না করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুনরায় চুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে মেলায় উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম, গান-বাজনা ও অতিরিক্ত শব্দসৃষ্টিকারী কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন বাণিজ্য মেলা আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরিবেশও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি ১২ এপ্রিল সিনিয়র আয়কর আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় আয়োজনগুলোর ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে, যেখানে উন্নয়ন ও আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।