সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এই উৎসব আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের অন্যতম বাহক।
রাষ্ট্রপতি পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে নববর্ষের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে।
কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা সনের যাত্রা শুরু, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজ আমরা নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরো সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হবো এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা, সব অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ি বছরের সব দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।’
এই আনন্দঘন দিনে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করি; ভেদাভেদ ভুলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।’