এই আয়াতে আল্লাহতায়ালা নবী করিম (সা.)-কে কেবল তাঁর ওপর নির্ভর করার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তিনি চিরঞ্জীব, সর্বশক্তিমান এবং অজেয়।
তাওয়াক্কুলের অর্থ কী?
তাওয়াক্কুল অর্থ হলো অন্তর থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা স্থাপন করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণ-অকল্যাণের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে এই বিশ্বাস রাখা।
এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, “তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো তবে আল্লাহর ওপরই ভরসা করো।” (সূরা মায়েদা: ২৩)
অর্থাৎ বান্দা তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর কাছে সোপর্দ করবে এবং বিশ্বাস রাখবে যে, লাভ-ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ।
ভরসার সঙ্গে চেষ্টা করা জরুরি:
ইসলামে তাওয়াক্কুল মানে অলসতা নয়। বরং চেষ্টা-সাধনা ও উপায়-উপকরণ গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। আলেমদের মতে, শুধু ভরসা করে বসে থাকা ইসলাম সমর্থন করে না। বরং ভরসার সঙ্গে কাজ করাও আবশ্যক।
হাদিসে তাওয়াক্কুলের শিক্ষা:
হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদেরকে এমনভাবে রিজিক দিতেন যেমন পাখিকে দেন সকাল বেলা খালি পেটে বের হয়, আর সন্ধ্যায় পরিপূর্ণ হয়ে ফিরে আসে।” (তিরমিজি, আহমাদ)
তাওয়াক্কুলের প্রকারভেদ:
ইসলামি স্কলারদের মতে তাওয়াক্কুল দুই প্রকার:
যে বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া কারো ক্ষমতা নেই, সেখানে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা।
বৈধ উপায়-উপকরণ গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর নির্ভর করা।
বাস্তব উদাহরণ: নবীজির (সা.) হিজরত:
হিজরতের সময় নবী করিম (সা.) হজরত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে সওর গুহায় আশ্রয় নেন। শত্রুরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও তিনি বলেন,
“আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা তওবা: ৪০)
এই ঘটনা প্রমাণ করে, সর্বোচ্চ বিপদের মধ্যেও আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে মানুষ নিরাপদ থাকে।
আল্লাহর ওপর ভরসার ফলাফল:
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” (সূরা ত্বালাক: ৩)
অর্থাৎ প্রকৃত মুমিন আল্লাহর ওপর ভরসা করলে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তাকে মানসিক প্রশান্তি ও সফলতা দান করেন।