
X
সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ব্রিটিশ কূটনীতিকদের পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) অ্যাম্বাসেডর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ্যাম্বাসেডর এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এসময় মন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিনিধিবর্গের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং মানবিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আজ বৃহষ্পতিবার (১৬এপ্রিল) সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী জাতীয় সংসদে তাঁর অফিস কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) অ্যাম্বাসেডর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ্যাম্বাসেডর মাইকেল মিলার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক্সপার্ট মিশনের সদস্য ম্যাথিউ ডেভিড কার্টার এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সাথে পৃথক পৃথক ভাবে আলোচনা করেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকার গুলোতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিনিধিবর্গের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং মানবিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের অসহায়-দুস্থ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
তিনি ইইউ’র সাথে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা সৃজন, শিশু সুরক্ষা প্রকল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এর সাথে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে মন্ত্রী বাংলাদেশের সামাজিক কল্যাণ খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার শিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন এবারে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখে বাঙালির কৃষ্টি কালচার উদযাপনে দেশি বিদেশি পর্যটকদের শতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কৃষ্টি কালচারকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। মন্ত্রী আগামী ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বগুরা জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউ এস এম্বাসেডরকে অংশগ্রহণের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের আমন্ত্রণ পত্র প্রদান করেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক্সপার্ট মিশনের সদস্য ম্যাথিউ ডেভিড কার্টার এর প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাতে মন্ত্রী বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহ্য তুলে ধরে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে কাজ করছে।
মন্ত্রী ডাঃ এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ২১ দিনের মাথায় জনগণের কাছে নির্বাচনের ওয়াদা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ১০ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বপ্রথম পাইলটিং পর্যায়ে দেশের অস্বচ্ছল পরিবারের নারী প্রধানকে ৩৭হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৪০শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষকদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে 'কৃষি কার্ড' দেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে আরও গতিশীল করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্ত এবং দুস্থ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে এ ধরনের সাক্ষাৎ আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর সাথে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে তাদের দেশের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর, ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা, শিশু নিরাপত্তা ও নারী অধিকার সংরক্ষণ, চলমান সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের সার্বিক আর্থিক সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন, এনডিসি, এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।