
X
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তাদের ওপর অবরোধ আরও জোরদার হবে এবং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে হামলা চালানো হতে পারে। ইরান তাদের হারানো সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারবে না। তাই তেহরানকে পরবর্তী পদক্ষেপ ‘বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে’ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যাতে ইরান ‘কখনোই’ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রয়োজনে ‘কঠোর পথেও’ এগোনো হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে উদ্দেশ করে হেগসেথ বলেন, আমরা আপনাদের ওপর নজর রাখছি। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সক্ষমতা সমান নয় এবং এটি ‘সমান লড়াই নয়’। তার ভাষায়, ‘আমরা আরও শক্তিশালী হচ্ছি, আর আপনারা অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার খুঁজে বের করছেন-যেগুলো প্রতিস্থাপনের কোনো সক্ষমতা আপনাদের নেই’। হেগসেথ আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন অবরোধই পরিস্থিতি মোকাবেলার ‘সহনশীল পথ’। তার দাবি, ইরান এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও তাদের কার্যকর নৌক্ষমতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি দেওয়া কোনো নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং ‘দস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ’।
হেগসেথের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বর্তমানে মোট শক্তির ১০ শতাংশেরও কম ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার তেহরানে পৌঁছে ইসলামাবাদে হওয়া আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা করেছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার মেয়াদ নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি। তবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, পরবর্তী আলোচনা খুব সম্ভবত পাকিস্তানের রাজধানীতেই হবে এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তারা ইতিবাচক।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানের সামনে একটি ‘বড় সমঝোতা’ প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান এবং দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের সমাধান সম্ভব। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়ে ইসরায়েলকে নিয়মিত অবহিত করছে এবং দুই দেশের লক্ষ্য এক।