
X
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আয়োজিত কর্মশালা
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) কর্তৃক আয়োজিত “Microcredit for Poverty Alleviation and Women Empowerment: Impact and Determinations” শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও পর্যালোচনা উপলক্ষে একটি Dissemination Workshop আজ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. সাইফ উদ্দিন আহমেদ।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এমআরএ-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এছাড়া আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুভাশীষ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
বার্ড-এর গবেষকবৃন্দ তাদের উপস্থাপনায় গবেষণার পদ্ধতি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ফলাফল তুলে ধরে বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ প্রাপ্ত পরিবারগুলো আয়, সঞ্চয় ও সম্পদ সঞ্চয়ে এগিয়ে থাকলেও দারিদ্র্যের তীব্রতা হ্রাসে মধ্যবর্তী উপাদানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একইসাথে, সামাজিক নেটওয়ার্ক ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে।”
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক-গবেষণায় দেখা গেছে যে ৯৮ শতাংশেরও বেশি নারী নতুন সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন এবং প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এনজিওতে যুক্ত হওয়ার আগে যেখানে মাত্র অল্পসংখ্যক নারী আত্মবিশ্বাসের সাথে মতামত দিতে পারতেন, সেখানে বর্তমানে এই অংশগ্রহণ তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। এটি আমাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে ক্ষুদ্রঋণ কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক রূপান্তরেরও একটি কার্যকর হাতিয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এক বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক বাংলাদেশ রূপান্তররের কথা বলা হয়েছে। যেখানে দারিদ্য দূরীকরণ, নারী ক্ষমতায়ণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি , প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ মওকুফ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে জোর দেয়া হয়েছে। আপনারা জানেন যে, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সরকার দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছে।”
বর্তমান সরকারের তিন বিশেষ দিকের প্রতি জোরের কথা ধরেন। সরকার তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে—প্রতিটি নাগরিকের জন্য ব্যাংক হিসাব নিশ্চিত করা, ভোক্তা ও কৃষকের জন্য সহনীয় ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং নারীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।
বক্তব্যের শেষে বলেন, “বিগত ৩ বছরে দেশের ৯০ লক্ষ মানুষের দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গিয়েছে, বাল্য বিবাহের হার বাড়ছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে, এমন পরিস্থিতে এমন গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। এমআরএ’কে এমন উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ।”
অন্য বিশেষ অতিথি মো. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি অবকাঠামো, বাজারসংযোগ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে, বিশেষ করে হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে।”
সভাপতির বক্তব্যে এমআরএ-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “মাইক্রোক্রেডিট খাতকে আরও কার্যকর করতে হলে আমাদের প্রোগ্রাম ডিজাইন, প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং তদারকি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে হবে। এমআরএ এ ক্ষেত্রে একটি সহায়ক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় যে, ক্ষুদ্রঋণ সরাসরি দারিদ্র্য হ্রাস না করলেও আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় গঠন, সম্পদ অর্জন, আয়ের বহুমুখীকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তার উন্নয়নের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসাথে, এনজিও-ভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক নেটওয়ার্ক বিস্তার, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য, সামাজিক কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ক্ষুদ্রঋণের পূর্ণ সুফল প্রাপ্তিতে প্রভাব ফেলছে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে বিশেষভাবে বিবেচ্য।
কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিআইডিএস, বিবিএস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিকেএসএফ, গ্রামীণ ব্যাংক, বার্ড, ইনাফি, সিডিএফ, এনজিওএবি, ন্যাশনাল ডাটা বেইজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ, বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং এমআরএ-এর কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।