প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম (ভিজিট : ৪৭)

X
নাটোরে তেল না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
নাটোরে সারাদিন অপেক্ষা করেও জ্বালানি তেল না পেয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। অবরোধ চলাকালে পাম্প কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে গ্রাহকদের ওপর হামলা চালায় পাম্প কর্মীরা। এতে অন্তত দুইজন গ্রাহক আহত হন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকার মেসার্স রহিম ফিলিং স্টেশনে এঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই পাম্পটিতে ফুয়েলকার্ড যাচাই সাপেক্ষে গ্রাহকদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শত শত মোটরসাইকেল চালক তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল ৫টায় তেল সরবরাহের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তখনও লাইনে অনেক গ্রাহক অপেক্ষায় ছিলেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ হঠাৎ তেল দেওয়া বন্ধের ঘোষণা দিলে উপস্থিত বাইকাররা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
এরই প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৫ টার পর ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পাম্পের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে রাস্তার দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রাহকদের তেল পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা অবরোধ তুলে নেন।
তবে, অবরোধ প্রত্যাহারের পর পুলিশি উপস্থিতিতেই পাম্প কর্তৃপক্ষ পুনরায় জানিয়ে দেয় তারা আর তেল দেবে না। এ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে পাম্প কর্মীদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পাম্প কর্মীরা স্থানীয় কিছু লোকজনকে সাথে নিয়ে গ্রাহকদের ওপর হামলা চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারপিটে দুই জন গ্রাহক আহত হন। এঘটনায় আহত দুই গ্রাহকের পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে রহিম ফিলিং স্টেশনের মালিকের ছেলে ও ফিলিং স্টেশনের পরিচালক সাকিব জানান, সকাল থেকেই ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল দেওয়া হবে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইকারদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেকেই কার্ড ছাড়াই তেল নিতে চান। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কিছু বাইকার তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। তেল না দেওয়ায় তারা সড়ক অবরোধ করেন। এক পর্যায়ে এক বাইকার উপস্থিত এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে গালিগালাজ করলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় পাম্প কর্তৃপক্ষের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
নাটোর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ফিলিং স্টেশনটি সড়কের পাশে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেখানে রাস্তায় ভিড় হয়। নির্ধারিত সময়ের পর তেল নিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্পে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।