প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম (ভিজিট : ৪২)

X
গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মিরপুরের গাবতলী খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে পুনরায় খেলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন।
গাবতলী মাঠের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশ দখলমুক্ত করব। এখানে কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন ঐতিহাসিক গাবতলী মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মাঠ পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘এই মাঠে কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে আমি নিজেও ফুটবল খেলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরের যেখানেই খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের কার্যক্রম গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।’
এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যত অবৈধ স্থাপনা আছে, সব উচ্ছেদ করা হবে। ‘আমরা দেখেছি, মাঠের চার ভাগের দুই ভাগের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আইন ও আদালত জনগণের কল্যাণের জন্য। আমরা স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে কথা বলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করব। এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি ওয়াক্ফ করে গিয়েছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ।
বর্তমানে মাঠটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় আশপাশের ১০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে মাঠটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।