
X
জ্বালানি সংকটে থমকে ভোমরা বন্দর: ট্রাক কম, পথে পচছে কাঁচামাল, বাড়ছে লোকসান
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে সৃষ্টি হয়েছে চরম পরিবহন সংকট। ডিজেলের অভাবে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সময়মতো পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, আর বাড়তি ভাড়ার চাপে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক বন্দরে পণ্য নিয়ে প্রবেশ করলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০টিতে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাক সময়মতো ফিরতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। ফলে খালাস হওয়া পণ্য বন্দরে আটকে থাকছে, বাড়ছে পণ্যের জট।
আমদানিকারক রিপন হোসেন জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রান্সপোর্টগুলো পর্যাপ্ত গাড়ি দিতে পারছে না। যে অল্প কিছু ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে, তার অনেকগুলোই মাঝপথে তেল ফুরিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো পণ্য সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না এবং কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেরিতে পণ্য পৌঁছানোর কারণে প্রতি কেজিতে ৫-৬ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা বড় ধরনের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোমরা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন কিরণ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাকভাড়া বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। আগে ঢাকায় এক ট্রাক পণ্য পরিবহনে খরচ হতো ২৫-২৬ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায়। তেলের অভাবে অনেক রুটে ট্রাক পাঠানোই সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে তেল সংকট তীব্র হওয়ায় এসব রুটে ট্রাক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তিন-চার দিন পরপর একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে। এতে পচনশীল পণ্য যেমন কাঁচামরিচ, আদা ও ফল রাস্তায় পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ট্রাকচালক বাবু ও সুমন হোসেন জানান, পথে তেল না পাওয়ায় তাদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আয় কমে গেছে। আগে যেখানে দুই দিনে একটি ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন এক সপ্তাহেও তা সম্ভব হচ্ছে না। পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মিলছে না তেল।
আরেক চালক আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। আগে চট্টগ্রাম রুটে ১৮০ লিটার তেল লাগলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ২১০ লিটার পর্যন্ত প্রয়োজন হচ্ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে পচনশীল পণ্য। সময়মতো পরিবহন না হওয়ায় পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে এবং বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, সম্প্রতি বন্দরটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে উন্নীত হওয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকট সেই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিচ্ছে। তিনি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।