
X
সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই প্রথম নিজ জেলা বগুড়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে প্রস্তুতিমূলক পরিবেশ ও জনআগ্রহ। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অপেক্ষা।
তার এ সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরের প্রধান সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সাতমাথা, নবাববাড়ী সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগেও সাজসজ্জায় অংশ নিচ্ছেন। পুরো শহরজুড়ে এখন এক ধরনের উৎসবমুখর প্রস্তুতির পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী তিনি সকালে বগুড়া রওনা দেবেন। সকাল ১০:৩০ মিনিটে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছাবেন।
সেখানে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর বেলা ১১:০০ টায় তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতির ভবন উদ্বোধন করবেন এবং একই সঙ্গে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এরপর বেলা ১১:৩০ মিনিটে তিনি বগুড়া পৌরসভা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নবসৃষ্ট ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর ফলক উন্মোচন করবেন।
পৌরসভা কর্মসূচি শেষে তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং ১২:৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উদ্বোধন করবেন এবং শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এরপর দুপুর ১:৪৫ মিনিটে তিনি নশিপুরে চৌকিরদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং একই সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করবেন। বিকেল ২:৪৫ মিনিটে তিনি বাগবাড়ী থেকে বগুড়া সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতির পর বিকেল ৪:০০ টায় তিনি শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এরপর বিকেল ৫:৪৫ টায় তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।
সবশেষে সন্ধ্যা ৬:০০ টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বগুড়া ত্যাগ করবেন। ফেরার পথে তিনি বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ)-তে স্বল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি করবেন এবং রাত আনুমানিক ১১:০০ টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি সফর হিসেবে নির্ধারিত। সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা থাকবেন। সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তারেক রহমান বগুড়ার সন্তান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় পর এই সফরকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আবেগ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভাকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সবাই তাঁকে বরণ করতে প্রস্তুত।”
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি বলেন, “এই সফর বগুড়ার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের আগমন বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সিটি করপোরেশন ঘোষণার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
সব মিলিয়ে বগুড়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সফরকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি চূড়ান্ত সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই।