প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম (ভিজিট : ২০)

X
আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ে ১০টির মধ্যে ৮টিতেই জিতেছেন সুর কৃষ্ণ
খেলোয়াড়দের জীবিকা নিশ্চিত করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ক্রীড়া কার্ড ও ১ লাখ করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত। আবার তা না পেয়েও হতাশ কেউ কেউ। এর মধ্যে বক্সার সুর কৃষ্ণ অন্যতম।
সোমবার (২০ এপিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশের অন্যতম সফল আন্তর্জাতিক পেশাদার বক্সার সুর কৃষ্ণ লিখেছেন, ‘‘২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমস চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৪ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় দলের পথচলা। ২০১৫ সালে রিও অলিম্পিক স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হই।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্কলারশিপের টাকা পেলাম না। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আলী জেকো লন্ডনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে নেওয়ার জন্য ট্রায়াল নিতে আসেন। সেখানে সারা বাংলাদেশের জাতীয় বক্সারদের ট্রায়ালে প্রথম সিলেকশন হয়। পরবর্তীকালে ফেডারেশনের সঙ্গে জেকোর ব্যক্তিগত দ্বন্দের কারণে লন্ডন যাওয়া বানচাল হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে জেকো স্যার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে আমাকে লন্ডনে নিয়ে যান। লন্ডনে ৫ মাস ট্রেনিং নেওয়ার পর দেশে ফেরত আসি। দেশে আসার পর জানতে পারি— আমাকে ফেডারেশন থেকে ব্যান করা হয়েছে। তখন চলছিল শিলং গৌহাটির সাফ গেমসের প্রস্তুতি।’’
‘‘লন্ডনে উচ্চতর ট্রেনিংয়ে আমার পারফরম্যান্স অনেক ভালো ছিল। দীর্ঘ দুই বছর ফেডারেশন থেকে নিষিদ্ধ থাকার কারণে চলে যাই ইন্ডিয়ায় প্রফেশনাল বক্সিংয়ের জন্য। ২০১৮ সালে দীর্ঘ ৬ মাস হরিয়ানায় ট্রেনিংয়ের পর ২ টা প্রফেশনাল বক্সিং করি এবং ২টি তেই জয় লাভ করি।’’
তিনি লিখেছেন, ‘‘২০১৮ সালে ফেডারেশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ হওয়ায় আবার জাতীয় দলে ডাক পায়। সেখানে ট্রায়ালের মাধ্যমে সিলেকশন হওয়ার পর ২০১৯ সালের সাফের দলে জায়গা পাই। নেপালের কাঠমুন্ডুতে সাফ গেমসে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করি। ২০২০ ও ২১ সালে বাংলাদেশ গেমস ও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে যাওয়ার সুযোগ পাই।’’
‘‘২০২২ সাল থেকে অ্যামেচার বক্সিং বাদ দিয়ে পুরোদমে প্রফেশনাল বক্সিং শুরু করি। বাংলাদেশের প্রথম প্রফেশনাল বক্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক বেল্ট অর্জন করি ২০২৩ সালে। এই পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে প্রফেশনাল বক্সিংয়ে ১০ টির মধ্যে ৮টিতেই জয় লাভ করি। প্রফেশনাল বক্সিংয়ের মাধ্যমে দেশকে আরও সামনে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’’
নানা চড়াইউতরাই পার করে আজকের এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। কিন্তু সরকার মনোনীত ক্রীড়া কার্ড প্রদানের তালিকায় আমার নাম আজ পর্যন্ত দেখলাম না। ক্রীড়া কার্ড সবচেয়ে দরকার আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া গেমসের জন্য।’’
‘‘অনেক গেমসের জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ও এখনও ক্রীড়া কার্ড পাননি, যারা বছরের পর বছর নীরবে দেশের জন্য লড়ে গেছেন। আমি মনে করি, টাকা অবশ্যই দরকার। কিন্তু টাকার চেয়ে স্বীকৃতি আরও সম্মানের।’’