
X
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে ‘সাফ কোটা বাতিল’-এর বিষয়টি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। খেলোয়াড়দের সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে নির্বাহী কমিটি। বাফুফে ভবনে রোববার সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গণমাধ্যমের সামনে সভার নানা বিষয় তুলে ধরেন কর্মকর্তারা।
গত মৌসুমে বাফুফে প্রতিটি ক্লাবকে সর্বাধিক পাঁচ জন দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলার নিবন্ধন করার এবং তারা ‘বাংলাদেশি খেলোয়াড়’ হিসেবে সেরা একাদশে খেলতে পারবে, এই অনুমতি দিয়েছিল। এ নিয়ে এবার আপত্তি জানায় ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। সাফের কোটা বাতিলসহ ছয়টি দাবি সংবলিত চিঠি তারা তুলে দেয় বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের হাতে।
ফুটবলারদের অন্য পাঁচ দাবি ছিল- বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা কমানো, স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য অধিক খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মান উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা, বাংলাদেশ ফুটবল লিগে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ফেডারেশনের নেওয়া।
নির্বাহী কমিটির সভায় সাফ কোটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ফুটবলারদের সাথে বসবেন তারা। “ফুটবলারদের জন্য কী করলে ভালো হবে, তাদের যদি কোনো কনসেপ্ট থাকে, সেটা অবশ্যই আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলাপ আলোচনা করেছি। পরবর্তীতে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব। প্রয়োজনে খেলোয়াড়দের সাথে আমরা বসব, তাদের সাথে আমরা কথা বলব, কথা বলে খেলোয়াড়দের যদি কোনো কনসেপ্ট থাকে, সেটা আমরা নিব এবং তাদের মতামত নিয়ে তাদের জন্য কোনটা করলে ভালো হয়, সে সিদ্ধান্ত নিব।”
বর্তমান কোচ হাভিয়ের কাবরেরার সাথে বাফুফের চুক্তি শেষ হবে এই এপ্রিলে। হাতে সময় থাকায় নির্বাহী কমিটির সভায় নতুন কোচের ব্যাপারে আলোচনা প্রাধান্য পায়নি বলে জানিয়েছে বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী। আমাদের ১০টা এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় ফুটবল কোচ এবং হেড কোচ নিয়ে যে আলোচনা, সেটা নিয়ে আজকে আলোচনা হয়নি। যেহেতু আমাদের এখনও কোচদের সিভি জমা দেওয়ার সময় আছে, এটা নিয়ে পরবর্তী মিটিংয়ে আলোচনা হবে।”
২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য পাঁচ টুর্নামেন্ট মাথায় রেখে খসড়া বর্ষপঞ্জি তৈরি করেছিল বাফুফে। বর্ষপঞ্জি চূড়ান্ত করা না হলেও বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, চ্যালেঞ্জ কাপ, সুপার কাপ, বাংলাদেশ ফুটবল লিগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ আয়োজনের আশাবাদ।
“আসলে গত দুই বছর আপনারা জানেন যে দেশের একটা পরিবর্তিত পরিস্থিতি ছিল। ৫ই আগস্টে পুরো দেশে একটা পরিবর্তনৃসেক্ষেত্রেও আমাদেরকে আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে এবং এবারও জাতীয় ইলেকশন, আমরা যখন ক্যালেন্ডার তৈরি করি তখন কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা আসেনি, আমরা কিন্তু সেভাবে ক্যালেন্ডারটা তৈরি করেছিলাম। তারপরে জাতীয় নির্বাচন চলে এলো, নির্বাচনের কারণেও আমাদেরকে খেলাগুলো পিছাতে হয়েছে। আশা করছি, যেহেতু এখন একটা স্থিতিশীল সরকার আসছে, নির্বাচিত সরকার আসছে, আমরা আমাদের ক্যালেন্ডারে যে সমস্ত টুর্নামেন্টগুলো রেখেছি, সেগুলো আমরা যথাসময়ে করতে পারব।”
তৃণমূলের ফুটবল নিয়ে কাজের স্বীকৃতি সম্প্রতি পেয়েছে বাফুফে। ব্রোঞ্জের গ্রেড থেকে সিলভার গ্রেডে উন্নিত হয়েছে বাফুফে। তৃণমূল পর্যায়ে কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।
“গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্টের চার্টার মেম্বারশিপ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পেয়েছিল ২০২১ সালে। গত ৯ এপ্রিল এএফসি থেকে আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশের মর্যাদাটা ব্রোঞ্জ থেকে এলিভেট করে সিলভার গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই গ্রাসরুট প্রোগ্রামগুলো আমাদের আরো জোরদার করার জন্যে আমরা কিছু কিছু আলোচনা করেছি।”
নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২২ মে অনুষ্ঠিত হবে।