প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৩০)

X
তানজিদ হাসান তামিম ও নিক কেলি
নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তিন ওয়ানডের সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে স্বাগিতক বাংলাদেশ দল। নাহিদ রানার দারুণ বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে দুইশর মধ্যে অলআউট করে তারা। তারপর ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিম ৭৬ রান করেন। ৫০ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৭ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় স্বাগতিকরা। ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করা ওপেনার নিক কেলি সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশি ওপেনার তানজিদ তামিমকে প্রশংসায় ভাসালেন।
তানজিদের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ কেলি বললেন, ‘হ্যাঁ প্রথমবার তাকে সামনাসামনি ব্যাট করতে দেখলাম। আগে টিভিতে দেখা হয়েছে। দারুণ খেলেছে সে। দারুণ প্লেয়ার। ক্লিন স্ট্রাইকার। বোলারদের চ্যালেঞ্জে ফেলে দেয় শুরুতেই। উইকেট কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে মনে হয়। তবে সে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দল দারুণ বলও করেছে। শুরুতেই আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছে।’
প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জিতেছিল। দুই ম্যাচের কোথায় তফাত এমন প্রশ্নে এই কিউই ওপেনার কেলির জবাব, ‘মনে হয় উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেটে শুরুতে ঘাস বেশি ছিল। কিছুটা বেশি সময় লেগেছে উইকেট বুঝতে। এ ছাড়া জরুরি সময়ে আমরা উইকেট হারিয়েছি। তারা অনেক ভালো বল করেছে। উইকেটের সাহায্যটা কাজে লাগিয়েছে। আমরা জুটি গড়তে গেলেই উইকেট হারিয়েছি। এখানেই দ্বিতীয় ম্যাচের পার্থক্যটা ছিল।’
১৯৮ রান করেও কি জেতার চিন্তা এসেছিল, কেলি বললেন, ‘সবসময়ই ভাবতে হবে রান ডিফেন্ড করা যাবে। নিজেদের মাঝে বিশ্বাস রাখতে হবে। খেলা শেষ হয়ে গেছে ভাবা যাবে না, শেষ হওয়ার আগেই। সংগ্রাম করে গিয়েছি আমরা ২০০ রান নিয়েই। মনে হয় ২৪০-২৫০ রান করতে হত প্রথম ম্যাচের মতো। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অনেক ভালো করেছেন। শুরু থেকেই চাপে রেখেছে আমাদেরকে। ভালোভাবেই রানটা তাড়া করেছে তারা।’
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে হবে চট্টগ্রামে। সেই ম্যাচ নিয়ে কেলি বলেছেন, ‘এখানে দুই উইকেটে পার্থক্য ছিল। যারা আগে এসব উইকেটে খেলেছে তারা জানবে ভালো। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেও অনেক শেখার আছে। এরপর বিশ্রাম নিয়ে সতেজ হয়ে পরের ম্যাচে মাঠে নামতে হবে।’
সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে এমন বড় হারের ধাক্কা কিউইদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারেনি। শেষ ম্যাচ নিয়ে নিউজিল্যান্ড বেশ আশাবাদী। তৃতীয় ওয়ানডের পরিকল্পনা নিয়ে কেলি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা আত্মবিশ্বাসী। মাত্র দুদিন আগেই তো আমরা দারুণ খেলে প্রথম ম্যাচটা জিতলাম। এই ম্যাচ থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি। কাগজে-কলমে এটা একটা বড় হার মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা যদি ইনিংসের শেষে আর ৪০-৫০ রান বেশি করতে পারতাম, তবে এই রান তাড়া করাটা তাদের জন্য বেশ কঠিন হতো। এখন আমরা দ্রুত এটা ভুলে গিয়ে বিশ্রাম নেব এবং সিরিজের অঘোষিত ফাইনালের জন্য মুখিয়ে থাকব।’
আগামী ২৩ এপ্রিল সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচ। খেলা হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে।