
X
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন।
মঙ্গলবার কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে সব জায়গায় নির্বাচনে হলেও ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এই নির্বাচন আইনজীবীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে দুটি দলের মধ্যে নির্বাচন হতো। একটি আওয়ামী লীগ এবং আরেকটি বিএনপি। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এবারের বিএনপি এবং জামায়াত ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করবেন অনেকে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ হবে। ভোটাররা কোন প্রকার বাধা ছাড়াই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন এবং গণনা স্বচ্ছতার সাথেই হবে। নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের পক্ষে কম সদস্য রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা বারের সংবিধানে ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের কমিটি গঠনের কথা বলা আছে। তবে এখানে কোন দল থেকে কতজন থাকবে তা বলা নেই। জামায়াতের পক্ষ থেকে ৩ জন এখানে রয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থী রয়েছে তাদেরও নির্বার্চন কমিশনে সদস্য দিতে হবে। তাই এখানে সেইভাবে নির্বাচন কমিশনে সদস্য রাখা হয়েছে।
এছাড়া তিনি বলেন, কোন আওয়ামী লীগের সদস্য যদি ভোট দিতে আসেন বা মব সৃষ্টি হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টা দেখবেন। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কোন গোয়েন্দা বাহিনী কিংবা প্রতিরক্ষা বাহিনী নাই। আপনারা সাংবাদিকরা আমাদেরকে আগাম তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।’ ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার আর ভোটার ২১ হাজার।
এদিন মতবিনিময়ের শুরুতে সাংবাদিকদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিসুর রহমান। এসময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য খন্দকার মো. ফেরদাউস, মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, রায়হান মোর্শেদ, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. ওয়ালিউল ইসলাম (তুষার), মো. আফানুর রহমান (রুবেল), মো. আ. মালেক, মো. জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ এসোসিয়েনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এবারের নির্বাচনে সম্পাদকীয় পদে ১৩ জন সহ কার্যকরী সদস্য পদে ১০ জন সহ মোট ২৩ টি পদের অনুকূলে ৫৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেল ও জামাত সমর্থিত সবুজ প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৯ জন বিভিন্ন পদে নমিনেশন বৈধ হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও সমমনা সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম খানের নেতৃত্বে নীল প্যানেল। জামাত ও সমমনা সমর্থিত সভাপতি এস এম কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে সবুজ প্যানেল।
এছাড়া সভাপতি পদে মো. ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও বলাই চন্দ্র দেব বিভিন্ন পদে ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।