
X
পেট্রোল পাম্পে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ সারি
জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই—সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বারবার এ দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ডিপোতে তেল উপচে পড়ছে, আমদানি জাহাজ সাগরে অপেক্ষায়, আবার কোথাও কোথাও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পেট্রোল পাম্পে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ সারি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বেসরকারি শোধনাগারগুলোর ডিপো এখন প্রায় পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে নতুন করে আসা জ্বালানি তেল সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজ পৌঁছালেও সব পণ্য দ্রুত খালাস করা যাচ্ছে না। কিছু লাইটার জাহাজ সাগরেই অপেক্ষায় রয়েছে, কারণ ডিপোতে খালি জায়গা নেই।
চট্টগ্রাম বন্দর ও বিপিসি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একাধিক জাহাজে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এলেও সংরক্ষণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে খালাস প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে। এর ফলে সরবরাহ চেইনে তৈরি হচ্ছে চাপ।
দেশের বেসরকারি শোধনাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম সুপার পেট্রোকেমিক্যাল দাবি করছে, তারা উৎপাদন অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না। তাদের মতে, বিপিসির পক্ষ থেকে সময়মতো তেল গ্রহণ না করায় ট্যাংকার পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানান, নির্ধারিত সরবরাহ না নেওয়ায় তাদের উৎপাদন চেইন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে তারা বারবার বিপিসিকে বাড়তি তেল নেওয়ার অনুরোধ জানালেও সাড়া মিলছে না।
অন্যদিকে বিপিসির সঙ্গে যুক্ত বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, ডিপোতে সংরক্ষণ সীমাবদ্ধতার কারণেই তারা সব সময় পর্যাপ্ত তেল তুলতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে তেল বিতরণে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট পাম্পে বেশি সরবরাহ দেওয়া হলেও বেশির ভাগ পাম্পে পর্যাপ্ত তেল পৌঁছাচ্ছে না। এর ফলে অনেক এলাকায় সন্ধ্যার আগেই পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তাদের দাবি, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিন বিতরণ কোম্পানির কিছু কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে এই বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। সমানভাবে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একাধিক পাম্প মালিকের ভাষ্য, একই জেলায় দুই ধরনের আচরণ দেখা যায়। কোথাও তেল উপচে পড়ে, আবার কোথাও পাম্প বন্ধ রাখতে হয়। এই বৈষম্যই মূল সংকট তৈরি করছে।
নরসিংদীর পাঠান পেট্রোল পাম্পের মালিক নিবিড় পাঠান জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেছেন, পুরো খাতে একটি ‘নীলনকশা’ কাজ করছে, যার ফলে সাধারণ পাম্প মালিক ও গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।