
X
রিয়াল মাদ্রিদের দুই গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপে (বাঁয়ে) ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
ম্যাচের শুরুর দিকে কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র বল স্পর্শ করতেই গ্যালারি থেকে ভেসে এলো সমর্থকদের দুয়োধ্বনি। পরে এই দুজনই করলেন গোল। আলাভেসকে হারিয়ে লিগ টেবিলে ব্যবধান কমাল রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মঙ্গলবার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। তারা দুই অর্ধে করেছে একটি গোল করে।
সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় গোল পেয়ে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে। বিরতির পর চোখধাঁধানো গোলে ব্যবধান বাড়ান ভিনিসিয়াস। শেষ দিকে ব্যবধান কমান তনি মার্তিনেস। লা লিগায় দুই ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল আলভারো আরবেলোয়ার দল। ঘরোয়া লিগে মায়োর্কার বিপক্ষে হারের পর, জিরোনার সঙ্গে ড্র করে তারা। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার-ফাইনালের দুই লেগেই বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।
আর এই জয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান ৬ পয়েন্টে নামিয়ে আনল রিয়াল। ৩২ ম্যাচে ২৩ জয় ও চার ড্রয়ে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তারা। এক ম্যাচ কম খেলে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। রিয়াল আক্রমণে একটু এগিয়ে থাকলেও, তাদের চোখে চোখ রেখেই খেলেছে অবনমন অঞ্চলের কাছে থাকা আলাভেস। সফরকারীদের দুটি প্রচেষ্টা পোস্টে বাধা পায়, রেয়ালের একটি শট লাগে ক্রসবারে।
প্রায় ৬২ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য রিয়ালের ২৪ শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে। আলাভেসের ১৮ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হারা ম্যাচ থেকে একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন রিয়াল কোচ আরবেলোয়া। ওই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে না পারা মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনির সঙ্গে ফেরেন দুই ডিফেন্ডার ডিন হাউসেন ও আলভারো কাররেরাস।
তৃতীয় মিনিটেই বিপদে পড়তে বসেছিল রিয়াল। সতীর্থের পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন আলাভেসের আনহেল পেরেস। সামনে তখন শুধু গোলরক্ষক। কিন্তু পেরেস নিজে শট না নিয়ে পাস দেন লুকাস বোয়েকে। তার প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় রক্ষণে। বল দখলে আধিপত্য করে কিছু হাফ-চান্স পেলেও, পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না রেয়াল। ৩০তম মিনিটে লক্ষ্যে নিজেদের প্রথম শটে ভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যায় তারা। বক্সের বাইরে থেকে এমবাপের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।
এবারের লা লিগার সর্বোচ্চ স্কোরার এমবাপের গোল হলো ২৭ ম্যাচে ২৪টি, মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৪১টি। ৪২তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর ভালো সুযোগ পান এমবাপে। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পাস বক্সে পেয়ে বাইরে মারেন তিনি। দুই মিনিট পর এদের মিলিতাওয়ের শট লাগে ক্রসবারে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আলাভেসের মার্তিনেসের শট পোস্টে লাগে। ফিরতি বলে তার নিচু শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।
আর যোগ করা সময়ে একটি ধাক্কা খায় রেয়াল; চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন মিলিতাও। তার বদলি নামেন আরেক ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দর্শনীয় গোলে ব্যবধান বাড়ান ভিনিসিউস। ফেদেরিকো ভালভের্দের পাস বক্সের বাইরে পান তিনি। তার সামনে ছিল আলাভেসের একাধিক ডিফেন্ডার। তাদের মাঝ দিয়েই প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরাল শট নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক।
গোলের পর দুই হাত উঁচিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি করেন ভিনিসিয়াস। ৬১তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। তবে মুহূর্তের ব্যবধানে এমবাপের দুটি শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। আর শেষ দিকে রিয়ালের ওপর চাপ বাড়ায় আলাভেস। ৮২তম মিনিটে বক্সে ভিক্তর পারাদার হেড পোস্টে লাগে। ৮৬তম মিনিটে কাছ থেকে পেরেসের শট আটকে দেন হাউসেন।
তিন মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান কমায় আলাভেস। তাদের ডিফেন্ডার জনির শট লুনিন ঠেকানোর পর, বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় রেয়ালের ডিফেন্ডাররা। বক্সের বাইরে থেকে সতীর্থের জোরাল শট চমৎকার ফ্লিকে জালে পাঠান মার্তিনেস। ৩২ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে আলাভেস। অবনমন অঞ্চল থেকে ১ পয়েন্ট ওপরে তারা।