
X
: চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত-ইন্টারনেট
সাগরিকার আকাশে ঝলমলে রোদ। তীব্র গরমে বসে থাকাই যেখানে অস্বস্তিকর, সেখানে ২২ গজে লড়াইটা আরও কঠিন। আর এমন পরিস্থিতিতেই দীর্ঘ ইনিংস খেললেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। টানা ১৮৬ মিনিট ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি।
তবে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরই ফিরতে হয়েছে সাজঘরে। ক্লান্ত শরীরে ইনিংস আক্রমণাত্মক করার চেষ্টাতেই শেষ পর্যন্ত আউট হন তিনি। আর সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর শান্তর উদযাপনে সাধারণত ভিন্নতা থাকে; দুই হাত প্রসারিত করে আকাশে উড়ার ভঙ্গি তার ট্রেডমার্ক। কিন্তু এদিনের তীব্র গরমে সেই উদযাপনও দেখা যায়নি। ২০ ইনিংস পর সেঞ্চুরি পাওয়ার মুহূর্তে তিনি কেবল ব্যাট উঁচিয়ে চুমু খান, এরপর ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট তুলে ধরেই উদযাপন সীমাবদ্ধ রাখেন।
ওয়ানডেতে রান খরা কাটিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত করেছিলেন ফিফটি, সেই ছন্দ টেনে আনলেন আবারও। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবার স্পর্শ করলেন তিন অঙ্ক। ওয়ানডেতে আরেকটি সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ২০ ইনিংস পর। ৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে প্রথম বলেই একটু নড়বড়ে ছিলেন শান্ত। এরপর পুরোটা সময় তাকে মনে হয়েছে সাবলীল, খেলেছেন দাপট দেখিয়ে। ১১৪ বলে তুলে নেন শতক।
সেঞ্চুরির পথে তৃতীয় উইকেটে সৌম্য সরকারের সঙ্গে প্রথমে ৩৮ বলে ২৩ রান যোগ করার পর লিটন দাসের সঙ্গে পান বড় জুটি। দুজনে মিলে যোগ করেন ১৬০ রান (লিটন করেন ৭৬), যাতে শান্তর অবদান ৮২ রান। শান্তর সেঞ্চুরির সমম্য ৪১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ৪ উইকেটে ২০৮ রান। সেঞ্চুরির খানিক পরই অবশ্য আউট হয়ে যান তিনি। লিনক্সে বলে লং অন দিয়ে উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন। ১১৯ বলে ১০৫ রান করে থামে তার ইনিংস।
বৃহস্পতিবার প্রচণ্ড গরমে ব্যাটিং করতে গিয়ে কয়েকবার ক্র্যাম্পেও ভুগেছেন শান্ত। তবু থামেননি। পুরো ইনিংসে ৪২টি সিঙ্গেল ও ৫টি ডাবল নেন তিনি। বাউন্ডারি থেকে আসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। প্রায় ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা, সঙ্গে উচ্চ আর্দ্রতা..সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল বেশ কঠিন।
আর এই প্রতিকূল অবস্থাতেই সেঞ্চুরি করাটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আগের ম্যাচেও পায়ে ক্র্যাম্প নিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। ফলে তার ব্যাটে ধারাবাহিকতার ছাপ স্পষ্ট। এদিন জেডেন লেনক্সের করা ৪১তম ওভারের শেষ বলে লং-অনে সিঙ্গেল নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ১১৪ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ১৭৭ মিনিটে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ১৮৬ মিনিটে ১০৫ রানে আউট হন শান্ত।
শান্তর আগের সেঞ্চুরিও এসেছিল এই চট্টগ্রামেই। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলংকার বিপক্ষে শতকের পর এবার আবার এই মাঠেই কিউইদের বিপক্ষে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করলেন তিনি।
শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশ দলকে দারুণ জুটিতে টানলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। লিটন সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেও শান্ত থামলেন তিন অঙ্ক ছাড়িয়ে। এই দুজনের এনে দেওয়া ভিতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জুতসই পুঁজি পেল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট.লে মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেতে ২৬৫ রান করেছে বাংলাদেশ। ১১৯ বলে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন শান্ত। ৯১ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন কিপার ব্যাটার লিটন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩২ রানে ৩ উইকেট নেন উইল ও’রর্কি।
এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। উইল ও’রর্কির বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শূন্য রানে থাকা সাইফ হাসান। আগের ম্যাচে আগ্রাসী ফিফটি করা তানজিদ হাসান তামিম এবার দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি। ও’রর্কির বল টাম্পে টেনে বোল্ড হয়ে তিনি ফেরেন ৫ বলে ১ রান করে।
৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কেঁপে উঠা বাংলাদেশ দল এরপর প্রতিরোধের চেষ্টা চালায় শান্ত ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে। সৌম্য শুরুটা করেছিলেন কাভার ড্রাইভে। কিন্তু আউট হয়ে যান থিতু হয়ে। থার্ড ম্যানে ঠেলে প্রান্ত বদল করতে গিয়ে বোল্ড হন ২৬ বলে ১৮ রান করে।
৩২ রানে ৩ উইকেট হারানোর দল এরপর দিশা পায় দুই অভিজ্ঞ লিটন-শান্তর ব্যাটে। শুরুর খানিকটা দেখে খেলার পর রান বাড়াতে থাকেন তারা। শান্ত বাউন্ডারিতে মন দিলেও লিটন বেছে নেন প্রান্ত বদলের পথ। প্রথম বাউন্ডারি মারেন তিনি ৬০তম বলে। তবে প্রচুর সিঙ্গেল, ডাবলস নেওয়ায় চাপটা টের পাওয়া যাচ্ছিলো না।
দুজনেই পেরিয়ে যান ফিফটি, জুটি পেরিয়ে যায় শতরানের ঘর। ফিফটির আগ্রাসী হয় লিটনের ব্যাট। ও’রর্কিকে ছক্কা মারার পর বাঁহাতি স্পিনার লিনক্সের বলে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন। ৯১ বলে ৭৬ রান করে তিনি বিদায় নিলে ভাঙে দুজনের ১৬০ রানের জুটি।
সঙ্গীর বিদায়ের প্রভাব পড়েনি শান্তর ব্যাটে। তিনি ঠান্ডা মাথায় পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে। ১১৪ বলে সেঞ্চুরি তুলার পর আর পাঁচ বল টিকেছেন তিনি। ব্যাক্তিগত ১০৫ রানে শান্ত আউট হন লং অনে ক্যাচ দিয়ে।