নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

চট্টগ্রামে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাসের ম্যারাথন জুটি। শান্ত

2026-04-23T19:42:40+00:00
2026-04-23T20:04:37+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪২ পিএম  আপডেট: ২৩.০৪.২০২৬ ৮:০৪ পিএম  (ভিজিট : ৯৩)
ক্যাপশন :নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা-ইন্টারনেট
X

ক্যাপশন :নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা-ইন্টারনেট

চট্টগ্রামে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাসের ম্যারাথন জুটি। শান্ত করেছেন সেঞ্চুরি, লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস। তাতে আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। এরপর চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে মুস্তাফিজের ভেলকি, একাই নেন ৫ উইকেট। ব্যাস, এতেই কুপোকাত সফরকারী নিউজিল্যান্ড দল। আর সহজ জয়ে এক যুগ পর কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল টাইগাররা।

প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা থাকায় বৃহস্পতিবার সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল অঘোষিত ফাইনাল। সেখানে বীরশ্রেষ্ট ফ্লাইট লেফটেনেন্যান্ট শহীদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং করে ২৬৫ রান করে টাইগাররা। শান্ত ১০৫ আর লিটন করেন ৭৬ রান। জবাবে ২১০ রানে থামে কিউইদের ইনিংস। এ জয়ে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলো মেহেদী হাসান মিরাজের দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২০১৩-১৪ সালের পর এই প্রথম সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।

আর রান তাড়ায় ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান তুলে নেন হেনরি নিকোলসকে। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৩ রান তুলে পারে কিউইরা। এরপর উইকেটে থিতু হওয়া উইল ইয়াংকে ১৪তম ওভারে ফেরান নাহিদ রানা।

অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন ইয়াং। তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। তিন ওভার পর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে। মিডল স্টাম্পে থাকা ফুল লেংথ বলটিকে ল্যাথাম নিচু হয়ে সুইপ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে শর্ট ফাইন লেগ অঞ্চলে, সহজেই ক্যাচ নেন শরিফুল।

এরপর নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস মিলে চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন। উইকেটে থিতুও হয়েছিলেন দুজনই। ওপেনিংয়ে নামা কেলিই আগলে রেখেছিলেন এক প্রান্ত। তবে দু’জনের জুটি বড় হতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ২৬তম ওভারে কেলিকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁ-হাতি পেসার।

এর আগে ৮০ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রান করেন কেলি। এর কিছুক্ষণ পর আব্বাসকেও হারায় নিউজিল্যান্ড। শরিফুলের শিকার হয়ে ফেরার আগে ৩৬ বল খেলে ২৫ রান করেন তিনি। ৪ ওভার পর নাহিদ রানার করা ঘণ্টায় ১৪৮.৬ কিলোমিটারের ইয়র্কার উপড়ে ফেলে জশ ক্লার্কসনের উইকেট। ৩৪ ওভারে ১৩৭ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড ততক্ষণে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে।

এরপর ১৫০ থেকে ১৬০, ১০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করার সঙ্গে ফাইফার পূর্ণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট একাই চেষ্টা করছিলেন অসম্ভবকে সম্ভব করার। ৪২তম ওভারে তানভীর ইসলামকে দুইটি ছক্কাও হাঁকান। এরপরের ওভারে মোস্তাফিজকেও হাঁকান টানা দুই ছক্কা। তবে তার ৭৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সৌম্য সরকারও (১৮)। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান। শুরুর চাপ আর নিউজিল্যান্ড বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, শুরুতেই খোলসে ঢুকে যান লিটন ও শান্ত।

১৩.৩ ওভারে দলীয় ৫০ রান পূর্ণ হয় বাংলাদেশের। ২৬তম ওভারে তৃতীয় বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত, ব্যক্তিগত ৭০ বলে। শুরুর চাপ কাটিয়ে আস্তে আস্তে মিডল ওভারে রানের চাকা সচল করতে থাকেন দুই ব্যাটার। ৩০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে জমা হয় ১৩৫ রান। ৩৩ তম ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১৩ তম ফিফটি তুলে নেন লিটন।

এর আগে সর্বশেষ ফিফটি পেয়েছিলেন ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে। ২টি চারে ৭১ বলে ফিফটি পেলেন পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

৩৯তম ওভারে লিটনে আউটে ভাঙে ১৬০ রানের জুটি। ১ ছক্কা ও ৩ চারে ৯১ বলে ৭৬ রান করেন লিটন। তিনি সেঞ্চুরি মিস করলেও শান্ত সেই ভুল করেননি। ১১৪ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এই মাঠেই সবশেষ ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে সেঞ্চুরির পর তিনিও দ্রুত ফিরে যান। এর আগে খেলেন ১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ বলের ইনিংস। যে ইনিংস খেলতে তাকে উইকেটে কাটাতে হয়েছে ১৮৬ মিনিট।

শান্ত-লিটনের বিদায়ের পর শেষদিকে আবার মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনপ। এক সময়ে যেখানে মনে হচ্ছিল ৩০০ ছাড়াবে বাংলাদেশের সংগ্রহ। সেখানে শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬১ রান করতে পারেন তাওহিদ হৃদয়-মেহেদী হাসান মিরাজরা। ফলে আড়াইশ টপকেই থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩*, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভির ০, মুস্তাফিজ ৩*; ও’রোক ৭-১-৩২-৩, স্মিথ ৯-০-৫০-০, লিস্টার ১০-০-৬২-২, আব্বাস ৫-০-১৬-০, ক্লার্কসন ৩-০-১৯-০, লেনক্স ১০-০-৫০-২, ফক্সক্রফট ৬-০-৩৫-১)

নিউজিল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (নিকোলস ৪, কেলি ৫৯, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, আব্বাস ২৫, ফক্সক্রফট ৭৫,  ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও’রোক ১, লিস্টার ২*; শরিফুল ৭-০-১৯-১, মুস্তাফিজ ৯-২-৪৩-৫, নাহিদ ১০-১-৩৬-২, তানভির ১০-০-৭০-০, মিরাজ ৮.৫-০-৩৬-২)

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ : নাজমুল হোসেন শান্ত

ম্যান অব দ্যা সিরিজ : নাহিদ রানা 






Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy