
X
ফাইল ছবি
গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদে জোরালো আলোচনার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
বর্তমানে দেশজুড়ে ‘প্যাকেজ কর্মসূচি’ পালন করা হলেও দাবি আদায়ে কাজ না হলে পর্যায়ক্রমে কঠোর আন্দোলনের কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে জোটটি। ইতোমধ্যে গণমিছিল, সেমিনার, লিফলেট বিতরণ ও দেয়াল লিখনের পর বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ সম্পন্ন করেছে ১১ দল।
এবার ঢাকায় বিশাল মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী। মূলত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই জাতীয় সমাবেশ থেকে সরকারকে একটি কড়া বার্তা দিতে চায় তারা।
নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ এপ্রিল বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সেমিনার এবং লিফলেট বিতরণ চলবে। এর মধ্যেই ঢাকায় পরপর দুই দিন দুটি বড় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা জানান, সংসদে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা। তাদের দাবি, রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে কর্মসূচির তীব্রতা বাড়ানো হবে। পরিস্থিতি বুঝে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার বিষয়েও জোটের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এ প্রসঙ্গে বলেন, জনগণ এখন ক্ষুব্ধ। বিএনপি সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের চড়া মাসুল দিতে হবে। বর্তমানে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি, তবে দাবি মানা না হলে অচিরেই ‘নরম’ কর্মসূচি থেকে ‘গরম’ কর্মসূচির দিকে যাবে ১১ দল।
আগামীকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকায় ‘জাতীয় সমাবেশ’ এর ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১০টায় শুরু হতে যাওয়া এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জুলাই বিপ্লবের আট শতাধিক শহীদ পরিবার, আহত সদস্য এবং হাজারো ‘জুলাই যোদ্ধা’র উপস্থিতিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদেরও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে, যাতে সমাবেশটি একটি সর্বদলীয় রূপ পায়।
একই দিনে রাজধানী বাদে দেশের সকল মহানগরীতে ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি পালিত হবে। এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ জনজীবনের নানামুখী সমস্যা সমাধানের দাবিতেই আমাদের এই আন্দোলন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশ এক গভীর সংকটকাল অতিক্রম করছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়ন করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এই আন্দোলন কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার ও একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমে জনগণের দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।