
X
ঘোড়াঘাটে সেবার রেকর্ডের মাঝেই ইউএইচএফপিও বদলির গুঞ্জন, উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে চিকিৎসা সেবায় রেকর্ড পরিমাণ অগ্রগতি দেখা দিলেও এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সোলাইমান মেহেদী হাসানকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ডা. সোলাইমান মেহেদী গত ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর এই হাসপাতালে যোগদান করেন। এর আগে সাবেক ইউএইচএফপিও ডা. তৌহিদ আনোয়ারের সময়ে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রস্তুত করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে তা দীর্ঘদিন ধরে চালু করা সম্ভব হয়নি।
ডা. সোলাইমান মেহেদী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সেই স্থবিরতা কাটিয়ে ওটি সচল ও উদ্বোধন করেন যা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠালগ্নের ৫৯ বছর পর এ কার্যক্রম শুরু হয়। তিনি নিজে একজন দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জন হওয়ায় হাসপাতালটিতে নিয়মিত হাড়জোড়সহ বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত অর্থোপেডিক ও গাইনি বিভাগসহ সর্বমোট প্রায় ৭০টি বড় অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে; যা হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি রেকর্ড।
সাবেক ইউএইচএফপিও ডা. তৌহিদ আনোয়ার বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে চিকিৎসক সংকটে ভোগা এই হাসপাতালে বর্তমান ইউএইচএফপিওর উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শুধু অস্ত্রোপচারই নয়, আগে অনুপস্থিত বা সীমিত থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবাও তার উদ্যোগে চালু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে জলাতঙ্ক ও সাপে কাটার ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার যন্ত্রপাতি সচল করার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তি কমাতে স্বল্প খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু করা হয়েছে। যেখানে বাইরে এই পরীক্ষার জন্য প্রায় ১২০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে হাসপাতালে সরকারি খরচে মাত্র ২২০ টাকায় এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ভর্তি রোগীদের জন্য ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ইনসুলিন ও হাঁপানি রোগীদের জন্য ইনহেলার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন করে ডেন্টাল ইউনিট চালু ও মহিলা ওয়ার্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউএইচএফপিওকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জনে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, এই দক্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করলে সেবার চলমান অগ্রগতি ব্যাহত হবে এবং রোগীরা আবারও ভোগান্তিতে পড়বেন। স্থানীয় বাসিন্দা জালাল সরকার ও কবির হোসেন জানান, এই হাসপাতালে আগে চিকিৎসা বলতে কিছুই ছিল না। এখন যে উন্নতি হয়েছে, তা ধরে রাখা জরুরি। এই অবস্থায় দায়িত্বশীল চিকিৎসককে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আবারও আগের মতো হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলাইমান মেহেদী হাসান বলেন, বদলি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন আমাকে অন্যত্র পাঠাবেন, সেটা তাদের ব্যাপার। তবে আমি যেখানেই কাজ করি না কেন, সাধারণ মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিন বলেন, আমি হাসপাতালে যতটুকু দেখেছি তিনি আসার পর অপারেশন থিয়েটারটি চালু করেছেন। ছোট বড় অনেকগুলো অপারেশন তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও হাসপাতালে বেশ কিছু ভালো ভালো কাজ তিনি করেছেন, যা দৃশ্যমান। তার বদলির এরকম কোন আদেশ আমি দেখিনি, তবে পরবর্তীতে যেই আসুক সে যেন এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখে।
দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেরদৌসের সাথে এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে জানান, আসলে ইউএইচএফপিওদের বদলির ব্যাপারে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, এটা করে থাকেন অধিদপ্তর। বদলি তো চলমান প্রক্রিয়া তবে তার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানি না বা এরকম কোন কাগজ পাইনি। তবে এ বিষয়ে জানতে হলে আপনারা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।
চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাকে ঘোড়াঘাটেই বহাল রাখা হোক।