প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম (ভিজিট : ৭৯)

X
অভিযুক্তদের বাসায় আগুন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জের ধরে আহত হওয়া যুবক বশির উদ্দিন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধরা অভিযুক্ত আবু রশিদ এর দুইটি বাড়ীতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। নিহত বশির পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন এর ছেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছে। তথ্যটি মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বারেক মিয়ার ছেলে আবু রশিদ ও একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে নাদির এর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় নাদির এর পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে আবু রশিদ এর দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ দলবল নিয়ে এসে নাদির এর পক্ষের লোকজনের উপর হামলা করে।
হামলায় বশির গুরুতর আহত হয়। হামলায় বশির এর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আহত অবস্থায় বশির ও আবু রশিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সোমবার দিবাগত রাতে বসির ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বসির এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোর রাতে বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদ এর দুইটি বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ করে। এতে তাদের দুইটি বসতঘর পুড়ে যায়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এর দুইটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, ২১ শে এপ্রিল রাতে বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বসির উদ্দিন ও আবু রশিদ আহত হওয়ার ঘটনায় উভয় পরিবার থানায় দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বসির এর মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একাধিক টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে যায়। এই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আবু রশিদ এর দুইটি বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এগিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এতে ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদের কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
নিহত বসির এর চাচাতো ভাই মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, বসির পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। ২১ শে এপ্রিল সংঘর্ষের সংবাদ শুনে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু আবু রশিদ এর পক্ষের লোকজন তাকে এলোপাথাড়ী ভাবে কুপিয়ে ও শক্ত বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করার কারনে তার অবস্থা সংকট পূর্ণ হয়ে পড়ে। ঢাকায় একটি বেসরকারী হাসপাতালে বসির এর মাথায় অস্ত্রপ্রচার করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বসির মৃত্যু বরণ করেন। বসির ৩ সন্তানের জনক।
৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম শাহিন বলেন, মাদকের ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২১ শে এপ্রিল রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭নং ওয়ার্ডটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট এই এলাকাটি ব্যবহার করে মাদক সরবরাহ করে আসছে। নাদির ও আবু রশিদ এর পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। নিহত বসিরকে মাদক ব্যবসায়ীদের বলি হতে হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ২১ শে এপ্রিল বৈদ্দ্যেরখিল এলাকায় ২ পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ২ পরিবারই থানায় পৃথক ২টি মামলা করে। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি ওই ঘটনায় আহত হওয়ায় বসির নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদের পরিবারের বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিক্ষুব্ধরা আমাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে করে আমাদের ৬ পুলিশ আহত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।