
X
তাওহিদ হৃদয়
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টি২০তে ১৮২ রানের পাহাড় ডিঙিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর ম্যাচসেরা তাওহিদ হৃদয় মাঠ থেকে সরাসরি নামলেন দার্শনিকের ভূমিকায়। ট্রফি হাতে নয়, শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তিনি বোঝালেন, টি২০তে একটি ফিফটির চেয়ে অনেক বড় হতে পারে মাত্র ১০ রানের একটি ইনিংস।
সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। ঘরের মাঠে এই ফরম্যাটে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড। একাদশ ওভারে মাত্র ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নেমে ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতান তাওহিদ হৃদয়।
লিটন কুমার দাস আউট হওয়ার পরই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, আক্রমণই হবে একমাত্র পথ। তাওহিদ বললেন, ‘রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল ওই সময়টাতে। আমি যদি অ্যাটাক না করতে পারি, তাহলে হয়তো টাফ হয়ে যেত টিমের জন্য।’
তবে সেই চাপের মুহূর্তেও দলের মানসিক অবস্থা নিয়ে ইতিবাচক ছিলেন তিনি, ‘আমার কাছে ওই সময়টাতে যেটা পজিটিভ মনে হয়েছে, আমরা প্রেশারটা নিইনি। বাইরে থেকেও বোঝা যায়নি যে আমরা প্রেশারে আছি।’
তাওহিদের অর্ধশতকের পাশাপাশি পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনের বিধ্বংসী ব্যাটিং ম্যাচটি বাংলাদেশের মুঠোয় এনে দেয়। ইমন মাত্র ১৪ বলে করেন ২৮ রান, আর শামীম ১৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। এই দুই তরুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তাওহিদ হৃদয়।
এই প্রসঙ্গে তাওহিদ হৃদয় বলেন,‘ শামীম ওই সময়পতে যেটা করেছে, আমার কাছে মনে হয়েছে ওই ইনিংসটা একটা ফিফটির থেকেও অনেক বড়। টি২০ ফরম্যাটে ১০ রানও ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস হতে পারে।’ ইমনের ব্যাটিং নিয়ে তার মুগ্ধতা আরও স্পষ্ট, ‘আমি অনেক এনজয় করি ওর ব্যাটিং। ও এমন শটস খেলে যেটা আমাদের খুব কম ব্যাটসম্যানই পারে। বোলাররাও অনেক চাপে থাকে এরকম শটস খেলে।’
ব্যক্তিগত পছন্দের প্রশ্নে তাওহিদ হৃদয় বললেন, ১৬ বছর বয়স থেকেই চার নম্বর পজিশনে খেলে এসেছেন, ২০২৩ সালেও সেই পজিশনে ভালো করেছিলেন। তবু আক্ষেপ নেই তার, ‘একজন এ প্রফেশনাল প্লেয়ার হিসেবে আমাকে যদি বলে ৭-৮-৯ এ ব্যাটিং করো, ওটাই করবো। শুধু ওপেনিং ছাড়া জাতীয় দলে সব পজিশনে আমার অভিজ্ঞতা আছে। আশা করি কোনো একদিন ওপেনও করবো।’
ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেও প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সিতে নামা পেসার রিপন মন্ডলকে কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না হৃদয়, ‘রিপন বিশেষভাবে, ডেব্যু ম্যাচে ওই লাস্ট ওভারটা অনেক ভালো বল করেছে, কন্ট্রোল ছিল।” এরপর একটু থেমে যোগ করলেন, “সব বোলারকেই ক্রেডিট দিতে চাই, কারণ সবাই অনেক ক্লিয়ার মাইন্ড ছিল।’
এই জয়কে বড় মঞ্চের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন তাওহিদ হৃদয়, ‘টিম যখন এশিয়া কাপ বা বিশ্বকাপে ভালো করবে, তখন দেখবেন এখন যে পাঁচজন খেলছে, ইনশাআল্লাহ সামনে আরও সাত-আট-নয়জন খেলবে।’